তৃণমূল সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এ বার দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দফতরে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পড়ে থাকার অভিযোগের মাঝেই বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। আগামী ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত দফতরকে বিস্তারিত শূন্যপদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল নবান্নের অর্থ দফতর (অডিট শাখা)।
শুক্রবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব এবং সচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের কাছে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে বহু পদ খালি পড়ে থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই প্রতিটি প্রশাসনিক দফতরকে পৃথক ভাবে শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দফতর, ডিরেক্টরেট অফিস এবং আঞ্চলিক অফিস— এই তিনটি স্তরে আলাদা আলাদা তথ্য প্রস্তুত করতে হবে। যদিও বিশদ রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছেই সংরক্ষিত থাকবে, নবান্নে জমা দিতে হবে শুধুমাত্র সংকলিত ও একত্রিত রিপোর্ট। রিপোর্টে ১ মে ২০২৬ পর্যন্ত শূন্যপদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
-
কলকাতা পুরসভায় ফাইল চুরি করছে তৃণমূল! অভিযোগ এনে পুরসচিবের দ্বারস্থ বিজেপি, ভিত্তিহীন বলে জবাব তৃণমূলের
-
আইনের ফাঁক গলে গুরুতর বিধিলঙ্ঘন করা নির্মাণও ছাড় পেয়ে যাচ্ছে! অস্বস্তি দূর করতে স্পষ্ট নির্দেশিকার দাবি পুরসভার কর্তাদের
-
বদলাচ্ছে নিয়ম, নিয়োগে স্বচ্ছতা এনে দুর্নীতির কালি মুছতে চান শুভেন্দু! ‘স্বাগত’ বলে তৃণমূলের নিট-খোঁচা, কী বলছেন অন্যেরা
-
নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের অনেক বদনাম হয়েছে! বদলাতে হবে এই ভাবমূর্তি, রোজগার মেলায় বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে কতগুলি পদ পূরণ করা হবে, সেই বিষয়ে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যে সংখ্যক পদ সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রস্তাব করা হবে, তার পক্ষে যথাযথ যুক্তি এবং ব্যাখ্যাও দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরকে। ফলে স্পষ্ট, সরকার শুধুমাত্র শূন্যপদের হিসাব চাইছে না, সেই পদগুলি পূরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও বিস্তারিত মূল্যায়ন করতে চাইছে। রিপোর্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র ‘এক্সেল স্প্রেডশিট’ আকারে সফট কপি জমা দিতে হবে এবং তা তিনটি পৃথক শিটে ভাগ করা থাকবে— ‘এ’ বিভাগে দফতর, ‘বি’ বিভাগে ডিরেক্টরেট এবং ‘সি’ বিভাগে আঞ্চলিক অফিসের তথ্য থাকবে। নির্ধারিত ফরম্যাট কোনও ভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই রিপোর্ট পাঠাতে হবে নির্দিষ্ট দু'টি ইমেল আইডিতে এবং তা সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান বা নোডাল অফিসারের সরকারি ইমেল আইডি থেকেই পাঠাতে হবে। বিজ্ঞপ্তির শেষে বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে অর্থ দফতর। প্রসঙ্গত, শনিবার শিয়ালদহে রোজগার মেলার অনুষ্ঠানে এসে বিগত সরকারের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি, তাঁর সরকারের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়েও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনারা জানেন পশ্চিমবঙ্গের বদনাম হয়ে গিয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুরনিয়োগ দুর্নীতি, হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে।’’ তার পরই তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে আগামী দিনে সরকারি স্তরে এবং সরকারপোষিত বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনে নিয়োগ নিয়ে নতুন আইন আনা হবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য এবং সরকারের শূন্যপদ জানতে চাওয়া প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহলের একাংশ। রাজ্য প্রশাসনের একাংশের মতে, দীর্ঘ দিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এ বার গতি আসতে পারে। বিভিন্ন দফতরে কর্মী-সঙ্কটের অভিযোগ বাড়তে থাকায় এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।