Advertisement
E-Paper

শ্রেয়সের শতরানে জয়ে ফিরল পঞ্জাব! রবিবার দিল্লির বিরুদ্ধে নামার আগে চাপে কেকেআর, রাহানেদের সামনে অঙ্ক কী?

অবশেষে জয়ে ফিরল পঞ্জাব কিংস। টানা ছয় ম্যাচে হারের পর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারালেন শ্রেয়স আয়ারেরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ২৩:০৮
cricket

জয়ের উল্লাস পঞ্জাব কিংসের ক্রিকেটারদের। ছবি: পিটিআই।

মরণ-বাঁচন ম্যাচে জ্বলে উঠলেন শ্রেয়স আয়ার ও প্রভসিমরন সিংহ। আইপিএল কেরিয়ারে নিজের প্রথম শতরান করলেন শ্রেয়স। ৬৯ রান করলেন প্রভসিমরন। তাঁদের ব্যাটে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারাল পঞ্জাব কিংস। অবশেষে জয়ে ফিরল তারা। টানা ছয় ম্যাচ হেরে প্লে-অফে ওঠার লড়াইয়ে নিজেরাই নিজেদের চাপে ফেলে দিয়েছিল পঞ্জাব। লখনউকে হারাতে না পারলে আইপিএল থেকে বিদায় নিত তারা। কিন্তু শেষ ম্যাচে পদস্খলন হল না। লখনউয়ের দুঃস্বপ্নের মরসুম শেষ হল। পয়েন্ট তালিকায় সকলের নীচে শেষ করল তারা। পঞ্জাবের জয়ে চাপ বাড়ল কলকাতা নাইট রাইডার্সের।

ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান করেছিল লখনউ। শ্রেয়স ও প্রভসিমরনের ব্যাটে ১২ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জিতল পঞ্জাব। এই জয়ের ফলে ১৪ ম্যাচে ১৫ পয়েন্টে শেষ করল তারা। পঞ্জাবের নেট রানরেট ০.৩০৯। কেকেআরের পয়েন্ট ১৩ ম্যাচে ১৩। তাদের নেট রানরেট ০.০১১। অর্থাৎ, রবিবার দিল্লি ক্যাপিটালসকে শুধু হারালে হবে না, বড় ব্যবধানে হারাতে হবে রাহানেদের। প্রথমে ব্যাট করে ২০০ রান করলে অন্তত ৭৭ রানে জিততে হবে তাঁদের। বা পরে ব্যাট করলে ১৮০ রান অন্তত ১২ থেকে ১২.৪ ওভারের মধ্যে তুলতে হবে। অর্থাৎ, ৪৪ থেকে ৪৮ বল বাকি থাকতে জিততে হবে কেকেআরকে। তবেই পঞ্জাবের নেট রানরেট টপকে যাবেন রাহানেরা।

অবশ্য তার জন্য রবিবার দুপুরের ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে হারতে হবে। যদি রাজস্থান মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে দেয় তা হলে চতুর্থ দল হিসাবে প্লে-অফে উঠবে তারা। সে ক্ষেত্রে পঞ্জাব ও কেকেআর দু’দলই বিদায় নেবে। রাজস্থান হারলে তবেই নেট রানরেটের লড়াই পঞ্জাব ও কেকেআরের মধ্যে একটি দল প্লে-অফে উঠবে।

দেশের হয়ে খেলতে চলে যাওয়ায় এই ম্যাচে মিচেল মার্শকে পায়নি লখনউ। ছিলেন না এডেন মার্করামও। মাত্র দুই বিদেশি নিয়ে খেলতে নামেন ঋষভ পন্থেরা। ওপেনার হিসাবে সুযোগ পাওয়া আর্শিন কুলকর্ণী শূন্য রানে আউট হন। রান পাননি নিকোলাস পুরান (২)। তাঁরও দুঃস্বপ্নের মরসুম শেষ হল। জশ ইংলিস ও আয়ুষ বদোনি লখনউয়ের ইনিংস টানেন। দু’জনেই দ্রুত রান তুলছিলেন। বদোনিকে বেশি ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছিল। ১৮ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। যুজবেন্দ্র চহল জুটি ভাঙেন। বদোনিকে আউট করেন তিনি।

এই ম্যাচেও রান পেলেন না পন্থ। অনেক কষ্টে ২২ বলে ২৬ রান করলেন তিনি। ইংলিস না থাকলে লখনউয়ের সমস্যা বাড়ত। তিনি একার কাঁধে ইনিংসের হাল ধরেন। ৪৪ বলে ৭২ রান করে আউট হন তিনি। শেষ দিকে আব্দুল সামাদ ২০ বলে ৩৭ রান করেন। ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান করে লখনউ। দেখে বোঝা যাচ্ছিল, অন্তত ২০ রান কম করেছে তারা।

১৯৭ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ধাক্কা খায় পঞ্জাব। মহম্মদ শামি শূন্য রানের মাথায় আউট করেন প্রিয়াংশ আর্যকে। কুপার কোনোলি কয়েকটি বড় শট খেললেও বড় রান করতে পারেননি। ১০ বলে ১৮ রান করে সেই শামির বলেই বোল্ড হন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, রান তাড়া করতে সমস্যায় পড়বে পঞ্জাব। কিন্তু প্রভসিমরন ও শ্রেয়সের জুটি ছবিটা বদলে দেয়।

তাতে অবশ্য বড় হাত রয়েছে পন্থের। অর্জুন তেন্ডুলকর চলতি মরসুমে তাঁর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। প্রথম ওভারেই তাঁর বাউন্সার সামলাতে পারেননি প্রভসিমরন। বল উইকেটরক্ষক পন্থের কাছে যায়। খুব একটা কঠিন ক্যাচ ছিল না। কিন্তু পন্থ তা ফেলে দেন। তখন ২০ রানে ব্যাট করছিলেন প্রভসিমরন। সেই তিনিই ৩৯ বলে ৬৯ রান করেন। শ্রেয়সও অর্ধশতরান করেন। দুই ব্যাটারকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার লক্ষ্যে নেমেছেন তাঁরা। ৭৬ বলে ১৪০ রানের জুটি বাঁধেন তাঁরা। অবশেষে অর্জুনের নিখুঁত ইয়র্কারে ৩৯ বলে ৬৯ রানে আউট হন প্রভসিমরন।

লখনউয়ের বড় ভরসা ছিলেন মহসিন খান ও দিগ্বেশ রাঠী। কিন্তু দু’জনেই হতাশ করলেন। মাঝের ওভার রান তুলতে না পারার খেসারত দিতে হল লখনউকে। ধীরে ধীরে জয়ের দিকে এগোল তারা। একটা সময় জয় লক্ষ্যের মধ্যে আসার পর আরও হাত খুললেন শ্রেয়স। তিনি জানতেন, নেট রানরেট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই শামির এক ওভারে তিনটি ছক্কা মারলেন শ্রেয়স। ছক্কা মেরে খেলা শেষ করলেন তিনি। সেই ছক্কা মেরেই ৫১ বলে শতরানও করলেন পঞ্জাবের অধিনায়ক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর প্রথম শতরান এল। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
Shreyas Iyer Punjab Kings KKR
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy