Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

অবৈধ নির্মাণে রঘুনাথগঞ্জে অবরুদ্ধ নিকাশি

কলকাতা পুরসভায় সদস্য নির্বাচন ব্যবস্থা চালু হয় ১৮৭৬ সালে। তারও প্রায় ৭ বছর আগে মুর্শিদাবাদ জেলায় রঘুনাথগঞ্জ শহরকে নিয়ে প্রথম যে পুরসভা গঠিত

বিমান হাজরা
রঘুনাথগঞ্জ ২৬ অগস্ট ২০১৪ ০১:০৩
Save
Something isn't right! Please refresh.
আবর্জনায় বন্ধ নালা। ছবি: অর্কপ্রভ চট্টোপাধ্যায়

আবর্জনায় বন্ধ নালা। ছবি: অর্কপ্রভ চট্টোপাধ্যায়

Popup Close

কলকাতা পুরসভায় সদস্য নির্বাচন ব্যবস্থা চালু হয় ১৮৭৬ সালে। তারও প্রায় ৭ বছর আগে মুর্শিদাবাদ জেলায় রঘুনাথগঞ্জ শহরকে নিয়ে প্রথম যে পুরসভা গঠিত হয়, তার নাম ছিল ছিল জঙ্গিপুর। একই সঙ্গে জেলায় গঠিত হয় আরও দু’টি পুরসভা, কান্দি ও মুর্শিদাবাদ। রঘুনাথগঞ্জ শহরেই ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জঙ্গিপুরের প্রথম পুরপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন তৎকালীন মহকুমাশাসক শ্রীনাথ গুপ্ত। এর ১৫ বছর পর রাজ্যে পুর আইন চালু হয়। তার পরের বছর ১৮৮৫ সালে জঙ্গিপুর পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব পান শহরের বিশিষ্টজনেরা। পুরপ্রধান হন রঘুনাথগঞ্জ শহরের জমিদার কৃষ্ণবল্লভ রায়। এর ৪ বছর পর থেকে চালু হয় ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের ব্যবস্থা। সেই নির্বাচনেও জয়ী হয়ে জঙ্গিপুরের প্রথম নির্বাচিত পুরপ্রধান হন কৃষ্ণবল্লভবাবুই। সেই থেকে এ পর্যন্ত ১৪৫ বছরে ২১ জন নির্বাচিত পুরপ্রধান পেয়েছে জঙ্গিপুর। এই নির্বাচন অবশ্য আগে ছিল নেহাতই রাজনীতিহীন ব্যক্তি বিশেষের নির্বাচন বা এককথায় শহরের ‘বাবুদের শাসন’। বাম জমানায় ১৯৮১ সালে প্রথম রাজনীতির ছোঁয়া লাগে পুরনির্বাচনে।

সেই থেকে এ পর্যন্ত বহু বার বহু নাটকের সাক্ষী হয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দলবদল, অনাস্থা, চেয়ারম্যানের দুই দাবিদার নিয়ে আজব নাটকীয় পরিস্থিতি থেকে বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে জঙ্গিপুর পুরসভার রঘুনাথগঞ্জ শহর। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত একটানা ২৪ বছর নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতায় বামেরাই দখল করে রেখেছে জঙ্গিপুর। অথচ প্রায় দেড়শো বছরের প্রাচীন পুরসভার দুই শহর রঘুনাথগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে সমস্যার শেষ নেই। রাস্তার যানজট, জলাশয়গুলিতে আবর্জনার স্তুপ, নিকাশিনালার বিপর্যস্ত দশা থেকে পানীয় জল-যেন সমস্যার পাহাড়। শহরের ৬টি তহবাজারে দুর্গন্ধময় দুর্দশায় নাকালের শেষ নেই শহরবাসীর। তবু একটিও পুরবাজার গড়ে তোলা হয়নি। কিন্তু এতসব সমস্যা সত্ত্বেও গত আড়াই দশক ধরে ক্ষমতাসীন বাম পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে কোনও সুসংহত গণআন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ বিরোধী দল কংগ্রেসও।

৮.২ বর্গ কিলোমিটার এলাকার জঙ্গিপুর পুরসভার বিস্তার দুটি শহরকে ঘিরে। পূর্ব পাড়ে ৫.১৮ বর্গকিলোমিটার জুড়ে থাকা জঙ্গিপুর। পশ্চিমে ৩.০২ বর্গ কিলোমিটারের মহকুমা সদর রঘুনাথগঞ্জ। দু’টি শহরের মধ্যে বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী নদী। আগে ছিল জঙ্গিপুর শহরে ৯টি, রঘুনাথগঞ্জে ৬টি ওয়ার্ড। এখন ১২ ও ৮টি মিলে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ২০টিতে। গত তিন দশকে শহরে লোকবসতি বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। ১৯৮১ সালে লোকসংখ্যা যেখানে ছিল ৪৩ হাজার, ’৯১ তে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ হাজারে। ২০০১ সালে এক লাফে জনসংখ্যা ৬০ শতাংশ বেড়ে হয় ৭৮ হাজার। ২০১১-তে সেই জনসংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই বাড়তি চাপ থেকেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শহরের সমস্যাও। শহরের জমিতে টান পড়ায় ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী জমির দাম। তাই শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে বসতি বাড়ছে হু হু করে। রঘুনাথগঞ্জ শহর জুড়ে সবচেয়ে মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিকাশি ব্যবস্থা। শহরের ম্যাকেঞ্জি রোড ও এসডিও অফিস থেকে ফুলতলা পর্যন্ত প্রধান দুটি রাস্তার ধার বরাবর জলনিকাশির জন্য ইংরেজ আমল থেকেই ছিল নিকাশিনালা। সেই নালা বেয়ে শহরের বাড়তি জল বয়ে গিয়ে পড়ত পূর্বে ভাগীরথীতে ও পশ্চিমে খড়খড়ি নদীতে। সেই সব নালার উপর এখন গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ নির্মাণ। পুরসভা ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য ম্যাকেঞ্জি রোড বরাবর নিকাশি নালার দু’পাশে শতাধিক দোকানঘর গড়েছে। সেই সব দোকানঘরের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে নিকাশি নালার উপর ব্যবসায়ীরাই পুরসভার অনুমতি ছাড়াই গড়ে তুলেছেন অবৈধ নির্মাণ। পুরসভা সব দেখে শুনেও নীরব। ফলত শহরের নিকাশি ব্যবস্থাটাই বর্তমানে অবরুদ্ধ।

Advertisement

প্রায় ৪২ বছর ধরে রঘুনাথগঞ্জে আছেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কাশীনাথ ভকত। তিনি বলেন, “প্রথম যখন শহরে আসি তখন দেখতাম বালিঘাটা, ফাঁসিতলা, বাজারপাড়া, ম্যাকেঞ্জি মোড় সর্বত্রই লকগেট ব্যবস্থা চালু ছিল। তার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হত শহরের জল নিষ্কাশন। বর্তমানে সে সব লকগেটের একটিরও অস্তিত্ব নেই। শহরে কোথাও গজিয়ে উঠেছে ক্লাব ঘর, কোথাও দোকান, কোথাও বা বস্তি। এ সবের পিছনেই ইন্ধন রয়েছে হয় শাসক দলের অথবা বিরোধীদের। শহরের প্রধান সড়ক বলতে ৪ কিলোমিটার। সে সড়কের বাইরে এখন গড়ে উঠেছে একাধিক বাইপাস সড়ক। ফলে শহরে রাস্তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ কিলোমিটার। অধিকাংশই পিচের বা ঢালাইয়ের। তবু যানজট কমেনি। ট্রেকার, অটো, লছিমন, টোটোর সংখ্যার কাছে কমেছে রিকশার সংখ্যা। ফলে দূষণের মাত্রা বেড়েছে।

পুরপ্রধান মোজাহারুল ইসলাম অবশ্য সমস্যার কথা মেনে নিয়েই বলেন, “২০১১ সাল থেকে রাজ্য সরকারের সাহায্য প্রায় বন্ধ। পুরসভার নিজস্ব ফান্ড থেকে বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মেটাতে হয় বিদ্যুৎ-সহ আনুসঙ্গিক খরচে। শহরের যান নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩০ জন সিভিক কর্মীর বেতন দিতে হয় পুরসভাকে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৭ কোটি টাকার একটি ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। বহু বৈঠক করার পরেও এখনও পর্যন্ত সে টাকা আসেনি।”



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement