আবার বিহারে আক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় তাঁকে। জখম অবস্থায় আতঙ্ক নিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরেছেন ওই যুবক।
রঘুনাথগঞ্জের কুলগাছি বটতলার বাসিন্দা ফারুক শেখ জানান, কিছু দিন আগে বিহারের ভাগলপুরে ফেরি করতে গিয়েছিলেন। সেখানে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে ‘বাংলাদেশি’ বলে মারধর শুরু করেন। ওই যুবক বলেন, “আমি আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখালাম। কিন্তু ওরা কিছুতেই কিছু শুনল না, দেখলও না। মোদীর ছবি হাতে নিয়ে আমাকে লাথি-ঘুষি মারছিল আর বলছিল বিজেপিকে তো ভোট দিস না। আমার দাড়ি ধরে টেনে গালাগালি করে ওরা। গায়ে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল।”
কোনওমতে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ফেরিওয়ালা। তিনি জানান, বাড়ির অবস্থা ভাল নয়। ছোট ছোট তিন ছেলেমেয়ের মুখ চেয়ে কাজ করতে বাইরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে যে আর কখনও ভিন্রাজ্যে যাবেন না।
অন্য দিকে, ওড়িশায় আবার পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুবনেশ্বরে আক্রান্ত হতে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এক শ্রমিককে। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি এলাকার বাসিন্দা ২৮ বছরের শরিফুল ইসলাম জানান, গত তিন মাস আগে ভুবনেশ্বরে একটি নির্মাণকাজে গিয়েছিলেন। গত রবিবার রাতে কাজ সেরে ভাড়াবাড়িতে ফেরার সময় স্থানীয় কিছু লোকজন তাঁর উপর চড়াও হন। তিনি বলেন, “ওরা পরিচয়পত্র দেখতে চায়। আধার কার্ড দেখানোর পরেও ওরা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কিছু স্লোগান দিতে জোর করে। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। আমরা রাজি না হওয়ায় আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এমনকি, আমাদের উপর গরম জল ঢেলে দেওয়া হয়।” ওই পরিযায়ী শ্রমিকের অভিযোগ, শুধু মারধরই নয়, তাঁদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় থানায় গিয়েও সহযোগিতা মেলেনি। শরিফুলের বাড়িতে স্ত্রী এবং একটি নাবালক সন্তান রয়েছে। কাজ হারিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন যুবক। ধারাবাহিক ভাবে ঘটে চলা এই আক্রমণ, হামলায় ক্ষুব্ধ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের মন্ত্রী তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান এমন সমস্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘‘বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার যেখানেই রয়েছে, সেখানেই বাঙালিদের উপর এমন পরিকল্পিত ভাবে হামলা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অমানবিক।’’