লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে মহিলাদের সম্পর্কে বিজেপি নেতার ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের সেই কলাইকুন্ডার মাঠে পাল্টা সভা করল তৃণমূল। সোমবার সেই সভা থেকে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্তকে ‘নতুন কালিদাস’ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, বিতর্কের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান বদলে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কালীপদ।
গত শনিবার ঘাটালের দাসপুরে কলাইকুন্ডার মাঠে সংকল্প জনসভা থেকে কালীপদের একটি মন্তব্যে বিতর্ক শুরু হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়ার পর যখন স্ত্রীরা তৃণমূলকে ভোট দিতে যাবেন, সেই সময় যেন স্বামীরা তাঁদের ঘরে বন্দি করে রাখেন।’’ রবিবার এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে অবস্থান বদলাননি কালীপদ। যদিও তাঁর দলের তরফে জানানো হয়, তারা নেতার মন্তব্যকে সমর্থন করছে না।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করতে গিয়েও কালীপদের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘বলছেন লক্ষ্মীদের বাড়ি থেকে বার হতে দেবেন না ভোটের দিন! তাঁদের নাকি বন্দি করে রাখবেন! আমি বললাম, লক্ষ্মীদের তো চেনো না। তারা পাঁচালিও পড়ে, তারা রান্নাও করে। এরা শিল্পও গড়ে ছেলেদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, এরা সৃষ্টিও করে।’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘মহিলারা তো কারও মা, কারও বোন। ভুলে গেছো? আজ শাসানি দিচ্ছে, ইজ় ইট নট আ ক্রাইম? এত বড় ক্রিমিনাল অফেন্স? মেয়েদের বার হতে দেবেন না?’’ এর পরে মমতা জানিয়েছেন, কোনও মহিলার বয়স ৬০ বছর হয়ে গেলেও লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তা থাকবেন তিনি।
অন্য দিকে, লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে ‘বিতর্কিত মন্তব্য’ এবং রাজ্যকে বঞ্চনা ও এসআইআর নিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে কলাইকুন্ডার সভা থেকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বলেন, ‘‘নতুন এক কালিদাস বলছেন, মহিলাদের তালা বন্ধ করে রেখে দিন। এই কালিদাস, হরিদাসরা মধ্যযুগীয় ধারণা থেকে এই সব বলছেন।’’ তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা বিধায়ক অজিত মাইতি সভায় উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘মহিলারা কেন ঘরে তালাবন্ধ থাকবেন? আপনারা মেনে নেবেন তালিবানি ফতোয়া? আপনারা ভোট দিতে আসবেন, আপনাদের আটকে রাখা যায় না। পাকিস্তানে কেউ কেউ আটকে রাখার চেষ্টা করে, বোরখা পরার ফতোয়া দেয়।’’
আরও পড়ুন:
ঠিক ওই সময়ে কালীপদ তাঁর বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন। তিনি জানান, দলের নির্দেশেই এই কাজ করছেন। বিজেপি নেতা বলেন, ‘‘আমার বক্তব্যে যদি মহিলারা আহত হন, তা হলে আমি ব্যথিত এবং দুঃখিত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা মাতৃশক্তিকে দুর্গা রূপে পুজো করি। সেই মাতৃশক্তিকে তৃণমূল প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডারের নাম করে ভোট দিতে বলে। আমরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের বিরোধী কথা বলিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এক টাকা হলেও বেশি দেওয়া হবে।’’ পাশাপাশি তাঁর কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূলের অনুব্রত মণ্ডল কী ভাষায় মায়েদের নিয়ে কথা বলেন?’’ তার পর বিজেপি নেতা অভিযোগ করেন, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বাকচায় বিজেপি করার ‘অপরাধে’ কয়েক হাজার মহিলাকে লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে বঞ্চিত করেছে রাজ্য।