Advertisement
E-Paper

কামরুজ্জামানকে ধরুন, সুপারের কাছে কংগ্রেস

কেউ বলছেন, পাখি উড়ে গিয়েছে। কারও আবার সন্দেহ, এলাকাতেই গা ঢাকা দিয়ে আছে ভোটের দিন ডোমকলে বোমা মেরে তহিদুল খুনে প্রধান অভিযুক্ত কামরুজ্জামান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:০৬
প্রচারে সৌমিক হোসেন ও হিরণের সঙ্গে কামরুজ্জামান। ফাইল চিত্র।

প্রচারে সৌমিক হোসেন ও হিরণের সঙ্গে কামরুজ্জামান। ফাইল চিত্র।

কেউ বলছেন, পাখি উড়ে গিয়েছে। কারও আবার সন্দেহ, এলাকাতেই গা ঢাকা দিয়ে আছে ভোটের দিন ডোমকলে বোমা মেরে তহিদুল খুনে প্রধান অভিযুক্ত কামরুজ্জামান।

তৃণমূলেরই একটি সূত্রের দাবি, রাজ্যের এক তাবড় নেতার ডেরায় আশ্রয় নিয়েছে সে। ১৯ মে ভোটের ফল বেরনোর পরে তার ভাগ্য ঠিক হবে। দল ক্ষমতায় ফিরলে আবারও বহাল তবিয়তে ডোমকলের মাঠে নামবে সে। সে গুড়ে বালি পড়লে বাংলাদেশের টিকিট কাটা ছাড়া তার আর উপায় থাকবে না।

ঘটনার পরে পাঁচ দিন কেটে গেলেও পুলিশের তেমন হেলদোল নেই দেখে ফুঁসছে তহিদুলের গ্রাম হরিডোবা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটা বড় অংশের মতে, পুলিশ একটু তৎপর হলে ঘরে বসেই ধরতে পারত কামরুকে। কারণ খুনের তিন দিন পরেও তাকে এলাকায় দেখা গিয়েছে কয়েক বার। কিন্তু জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি, ডোমকলের প্রার্থী সৌমিক হোসেনের চাপেই তাকে ধরছে না পুলিশ। অভিযোগ এমনই।

Advertisement

ভোটের আগেই কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে টাউন কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিল কামরু। প্রচারে কেবল সৌমিক নয়, নায়ক-নায়িকাদের পাশে হুডখোলা গাড়িতেও দেখা গিয়েছে তাকে। সিপিএম এবং কংগ্রেসের দাবি, পুলিশও ১৯ মে-র দিকেই তাকিয়ে আছে। তৃণমূল জিতলে জামাই আদর করে কামরুকে এনে আদালতে হাজির করাবে। কিন্তু জোট সরকার গড়লে (যে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না) পুলিশই উল্টে চাপে পড়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন জোটের নেতারা। সোমবারই কামরুজ্জামানকে গ্রেফতারের দাবিতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।

ডোমকলের কংগ্রেস নেত্রী, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের প্রার্থী শাওনী সিংহ রায় বলেন, ‘‘খুনিকে পুলিশ ধরতে পারছে না। কামরুজ্জামান আর তার সাঙ্গোপাঙ্গেরা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছে। অথচ ভগীরথপুরে এক তৃণমূল কর্মীকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ তাড়া করছে নিরীহ মানুষদের। এটা মানা যায় না। স্মারকলিপিতে সেটাই জানানো হয়েছে।’’ পুলিশ অবশ্য দাবি করছে, কামরুজ্জামান যত প্রভাবশালী খুঁটিই ধরুক, সে গ্রেফতার হবেই। তাকে ধরার জন্য পুলিশ হন্যে হয়ে ঘুরছি। দু’টি জায়গায় হানা দেওয়া হলেও অল্পের জন্য সে পালায়। ‘‘ভোটের হাড়ভাঙা খাটুনির পরে লম্বা ঘুম দেব ভেবেছিলাম। কিন্তু এক কামরু সব ছারখার করে দিল। যত সব আনাড়ি সোর্স ভুলভাল খবর দিচ্ছে আর রাতের পর রাত জেগে এখান থেকে ওখান ঘুরে মরছি আমরা’’— প্রায় এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলেন জেলার এক পুলিশকর্তা।

জোটের নেতানেত্রী থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা কিন্তু পুলিশের এই ‘গল্প’ শুনতে নারাজ। তাঁদের দাবি, রবিবার রাতেও হরিডোবায় বোমাবাজি হয়েছে। গ্রামবাসীকে ভয় দেখাতেই কামরুর শাগরেদরা বোমা ছুড়েছে। সিপিএমের ডোমকল জোনাল সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমানের দাবি, ‘‘পুলিশ চাইলেই কামরুজ্জামানকে ধরতে পারে। কিন্তু শাসকের ভয়ে তারা সেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না।’’ তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘এলাকায় অশান্তি ছড়ালে তার দায় পুলিশ নেবে তো!’’

Qamruzzaman Congress
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy