Advertisement
E-Paper

ঘুম নষ্ট, আয়া বাঁধল বৃদ্ধাকে

সরকারি হাসপাতালে আয়া থাকাটাই নিষিদ্ধ। তা হলে রানাঘাট হাসপাতালে আয়ারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন কী করে? কী করেই বা তাঁরা এই রকম যথেচ্ছাচার চালাচ্ছেন? সুপার সুদীপকান্তি সরকার আয়া-র অস্তিত্বই অস্বীকার করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদন 

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০১৮ ০১:৫১

যন্ত্রণায় রাতে গোঙাচ্ছিলেন বৃদ্ধা। সেই ‘অপরাধ’-এ তাঁকে মারধর করে, শয্যা থেকে মাটিতে নামিয়ে, শাড়ি খুলে, হাত পায়ার সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের আয়াদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ একরকম স্বীকার করে নিয়েছেন আয়ারা। তাঁদের যুক্তি, ওই বৃদ্ধা রাতে চিৎকার করছিলেন, উঠে-উঠে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন, স্যালাইনের নল খুলে দিচ্ছিলেন। এতে সকলে বিরক্ত হচ্ছিলেন। তাঁদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছিল। তাই তাঁকে শুধু সায়া-ব্লাউজ পরিয়ে মাটিতে শুইয়ে বেঁধে রাখা হয়! তবে বৃদ্ধাকে মারা হয়নি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

সরকারি হাসপাতালে আয়া থাকাটাই নিষিদ্ধ। তা হলে রানাঘাট হাসপাতালে আয়ারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন কী করে? কী করেই বা তাঁরা এই রকম যথেচ্ছাচার চালাচ্ছেন? সুপার সুদীপকান্তি সরকার আয়া-র অস্তিত্বই অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ‘‘আয়া বলে কিছু হাসপাতালে খাতায়কলমে নেই। রোগীর বাড়ির লোকই ওঁদের ‘নিজেদের লোক’ বলে আনেন রোগীর সঙ্গে থাকার জন্য। তার পর কোনও গোলমাল হলে তাঁরাই আবার ওঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘এমন কিছু হতে দেওয়া যাবে না, যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিঘ্নিত হয়।’’

সোমবার সকালে রানাঘাটের রাধা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পর দিন সকালে বাড়ির লোক এসে তাঁকে হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরনে শুধু শায়া-ব্লাউজ ছিল। হাত বাঁধা ছিল শয্যার সঙ্গে। তাঁর ছেলে পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি এক জন আয়াকে মাকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। এসে দেখি এই অবস্থা। শুনতে পাই, মা-কে মারধরও করা হয়েছে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ মায়ের ওই অবস্থা দেখে কেঁদে ফেলেছিলাম। আয়ার কাছে জানতে গেলে তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, মাকে যেন আর হাসপাতালে রাখা না-হয়।”

Doctor Ayah old Woman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy