Advertisement
E-Paper

জেলায় গোষ্ঠী সংক্রমণের পরীক্ষা শুরু

ওই নির্গেশিকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে রাখার কথাও পরিস্কার করে বলা হয়েছে। এভাবে নমুনা সংগ্রহ করা বেশ জটিল হলেও জেলার চিকিৎসকদের একাংশ খুশি আইসিএমারের এই নির্দেশে।

সুজাউদ্দিন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২০ ০১:৩৭
ফাইল চিত্র

ফাইল চিত্র

প্রাথমিক সংস্পর্শে কোভিডের সংক্রমণের কথা মেনে নিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। তা হলে কি, পরের ধাপ, গোষ্ঠী সংক্রমণের ছায়া পড়তে শুরু করেছে রাজ্যে? কপালে ভাঁজ ফেলা সেই আশঙ্কা এখনও নেই বলেই দাবি করেছেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই অবশ্য মনে করেন, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা এ বার গোষ্ঠী সংক্রমণের দুয়ারে। আর তা যাচাই করতে, এ বার সংক্রমিত এলাকায় গিয়ে লালা রস সংগ্রহ করার নির্দেশ দিল আইসিএমআর। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে এমনই জানা গিয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘যে এলাকায় একাধিক ব্যক্তি সংক্রমিত হয়েছেন সেখানে মোবাইল ভ্যান পাঠানো শুরু হচ্ছে, এলাকার কুড়ি থেকে পঁচিশ জনের লালা রস সংগ্রহ করে দেখার কাজ শুরু হচ্ছে অচিরেই।’’

মুর্শিদাবাদ জেলার এক শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তার দাবি, জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরতে শুরু করার পরেই সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতের থেকে গ্রামে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের মাধ্যমেই সংক্রমণের প্রবণতা বেশি দেখা গিয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের পর্যবেক্ষণ বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ দিন লকডাউনে আটকে থাকা সেই শ্রমিকেরা ঘরে ফেরার পরে তাঁদের সংস্পর্শে আসা পরিবারের লোকজনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল প্রাথমিক ভাবে। দূরত্ব বিধি কিংবা নিভৃতবাস যথাযথ না মানার ফলে সেই সংক্রমণ ক্রমে ছড়িয়েছে গ্রামে।

মে মাসে, মাত্র দু’ সপ্তাহের ব্যবধানে ২ থেকে সংক্রামিতের সংখ্যা এক লাফে দাঁড়িয়েছিল ৯৮’এ। যদিও স্বাস্থ্য কর্তারা একে গোষ্ঠী সংক্রমণ বলে নারাজ। তাঁদের দাবি, প্রাথমিক সংস্পর্শে এসে জেলায় কিছু সংক্রমনের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু গোষ্ঠী সংক্রমন একে বলা যায় না। তবে এই দ্রুত সংক্রমণের হারকে আর হেলাফেলা করতে রাজি নয় আইসিএমআর। নির্দেশিকা পাঠিয়ে তাই গোষ্ঠী সংক্রমণের ছায়া পড়ল কি না তা খিতেয় দেখতে চায় তারা।
ডোমকলের এসিএমওএইচ মামুন রশিদ বলেছেন, ‘‘যে নির্দেশিকা এসেছে সেটা একেবারে আইসিএমআর এর গাইডলাইন মেনে। গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতেই এমন নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।’’

কিভাবে এই নমুনা সংগ্রহ করা হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। স্বাস্থ্য কর্তারা প্রাথমিক ভাবে ঠিক করেছেন, নির্দেশিকা অনুসারে মোবাইল অ্যাম্বুল্যান্স এলাকায় ঘুরে লালা রসের নমুনা সংগ্রহ করবে। ওই নির্গেশিকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে রাখার কথাও পরিস্কার করে বলা হয়েছে। এভাবে নমুনা সংগ্রহ করা বেশ জটিল হলেও জেলার চিকিৎসকদের একাংশ খুশি আইসিএমারের এই নির্দেশে। কারণ কোথাও গোষ্ঠী সংক্রমণণের ছায়া পড়ল কি না তা বোঝা যাবে দ্রুত। গ্রামে এসে লালারস সংগ্রহ করা হলে দূরের হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে যাওয়ার বাড়তি হ্যাপাও কমহে প্রান্তিক মানুষের। ডোমকলের সারাংপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলছেন, ‘‘আমাদের এলাকায় একাধিক পরিযায়ী শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা আতঙ্কে আছি। যদি স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে এলাকায় এসে নমুনা সংগ্রহ করা হয় তা হলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত হব।’’

এই আবহে শুক্রবার ফের দু’জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন জেলায়। তাঁদেরএক জন জলঙ্গির ফরিদপুরের অন্য জন ওই ব্লকেরই পরাশপুরের। এ দিন তাঁদের বহরমপুরে মাতৃসদন করোনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে, এ দিনও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক জন।

এই নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৯। তার মধ্যে সিংহভাগই, ১৫১ জন সুস্থ হয়ে ফিরে গিয়েছেন।

Coronavirus Lockdown
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy