Advertisement
E-Paper

স্পর্শকাতর এলাকা কোনটি, রিপোর্ট তলব

প্রশাসন সূত্রের খবর, শুক্রবার বিডিও ও বিএমওএইচদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স করেন জেলাশাসক বিভু গোয়েল।

সুস্মিত হালদার ও সাগর হালদার

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২০ ০২:০৭
শনিবারেও ভিড় ঘূর্ণী বাজারে। কৃষ্ণনগরে। নিজস্ব চিত্র

শনিবারেও ভিড় ঘূর্ণী বাজারে। কৃষ্ণনগরে। নিজস্ব চিত্র

জেলার কোন কোন এলাকা করোনার স্পর্শকাতর এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করে সম্পূর্ণ লকডাউন করা প্রয়োজন তা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সমস্ত ব্লকের বিডিও ও বিএমওএইচদের আজ রবিবারের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পর্শকাতর এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হবে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, শুক্রবার বিডিও ও বিএমওএইচদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স করেন জেলাশাসক বিভু গোয়েল। সেখানেই এই সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়। কোথায় জ্বরের রোগী মিলছে এবং সেই ব্লকের কোন কোন এালাকায় স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করে টোটাল লকডাউন প্রয়োজন, তা জানাতে বলা হয়েছে।

নদিয়া জেলায় একাধিক ব্লকের উপরে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সেই তালিকার একেবারে প্রথমে আছে তেহট্ট-২ ব্লকের বার্নিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। কারণ, এখানেই একই পরিবারে পাঁচ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল। স্বাস্থ্যকর্তাদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, বার্নিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় স্পর্শকাতর এলাকা হওয়ার প্রবল আশঙ্কা আছে। তেহট্ট-১ ব্লকেও কর্তাদের নজর আছে। চাপড়া ব্লককেও কড়া নজরদারি রয়েছে প্রশাসনের। কারণ, এই ব্লকে প্রায় আড়াই হাজার পরিযায়ী শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফিরে এসে হোম কোয়রান্টিনে থাকছেন। অভিযোগ, তাঁদের বেশির ভাগকেই হোম কোয়রান্টিনে রাখতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হয়েছে কর্তাদের।

Advertisement

স্বাস্থ্য দফতরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হাঁসখালি ব্লকও। কারণ, এখানেও প্রচুর মানুষ বাইরের রাজ্য ও বিদেশ থেকে ফিরেছেন। লক্ষ রাখা হচ্ছে শান্তিপুর ব্লকের দিকেও।

তবে চাকদহ ব্লক নিয়ে উদ্বেগে আছেন কর্তারা। এমনটাই জেলার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে। কারণ, এই ব্লকের উপর দিয়ে জেলার বিভিন্ন দিকে যাতায়াত করা যায়। উত্তর ২৪ পরগনা ছাড়াও একাধিক প্রতিবেশী জেলার লোক চাকদহের উপর দিয়ে যাতায়াত করেছে। এই ব্লকটি আবার হাবড়া সংলগ্ন।

জেলার এক স্বাস্থ্য কর্তার কথায়, ‘‘১৪ দিন শেষ হয়ে গেল। হোম কোয়রান্টিনে থাকা মানুষদের এ বার ভাল করে পরীক্ষা করলেই পরিস্থিতি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ফলে, রবিবার ব্লক থেকে আসা রিপোর্টের উপরেই অনেক কিছু নির্ভর করবে।” জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুণ্ডু বলছেন, “এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে আগামী দিনগুলিতে যদি আমরা লকডাউন মেনে চলি তা হলে হয়তো এই যাত্রায় বেঁচে

যেতে পারি।’’

জেলাশাসক বিভু গোয়েল বলছেন, ‘‘টোটাল লকডাউনের বিষয়ে আমরা এখনও কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাইনি। যেমন নির্দেশ আসবে, সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে।’’ তবে এই টোটাল লকডাউন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা, ছড়াচ্ছে বিভিন্ন গুজব। নাটনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে তো শনিবার টোটাল লকডাউন হচ্ছে বলে মাইকে প্রচার পর্যন্ত করা হয়। যা নিয়ে পড়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের।

নাটনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের দিলীপ বিশ্বাস বলছেন, ‘‘টিভির খবরে দেখেছি যে, তেহট্ট নাকি স্পর্শকাতর এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। সেই কারণেই আমাদের পঞ্চায়েতের কেউ অতি উৎসাহী হয়ে প্রচার করে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টা জানার পরই তা বন্ধ করে দিয়েছি।’’

বার্নিয়াতে টোটাল লকডাউনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আবার নতুন করে চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন স্থানীয়েরা। এখানে আবার পানীয় জলের সরবরাহ নেই। স্থানীয় বিধায়ক তৃণমূলের তাপস সাহা বলেন, ‘‘প্রয়োজন হলে জলের ট্যাঙ্ক এনে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy