অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন জেলার মানুষ, নিশ্চিন্ত হয়েছিল প্রশাসনও। গত মাসের পর আর নতুন করে আর কোনও করোনা রোগী না মেলায় অরেঞ্জ জোন হয়েছিল নদিয়া। বুধবার থেকে জেলা জুড়ে বহু দোকানও খুলেছিল। রাস্তায় ফিরেছিল ভিড়।
কিন্তু সেই শান্তি স্থায়ী হল না। ফের জেলা থেকে এক করোনা রোগীর সন্ধান মিলল বৃহস্পতিবার। ভীমপুর থানার গাঁটরা গ্রামের ওই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের মিলেছে বলে এ দিন জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এ দিন সন্ধ্যায় জেলাশাসক বিভু গোয়েলের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে নতুন করে এক জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে নদিয়া ফের অরেঞ্জ থেকে রেড জোনে যেতে পারে। তবে প্রশাসন থেকে এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, পেশা আনাজের ব্যবসায়ী ওই ব্যক্তি দিন তিনেক আগে কিডনির অস্ত্রোপচারের জন্য কলকাতায় আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কাছে একটি বেসরকরি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। তাঁর আগে ওই ব্যক্তির লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয় করোনা পরীক্ষার জন্য। এবং নমুনা পরীক্ষা করে পজিটিভ হয়। এর পরই তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশী মিলিয়ে ১৫ জনকে কৃষ্ণনগরের কর্মতীর্থের কোয়রান্টিন সেন্টারে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের সকলের লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ঠিক কি ভাবে ওই ব্যবসায়ী সংক্রমিত হলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জেলা স্বাস্থ্য কর্তাদের দাবি।
জেলায় প্রথম করোনা-আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছিল পলাশিপাড়ার বার্নিয়ার-শ্রীকৃষ্ণপুর এলাকায়। দিল্লি থেকে আসা একই পরিবারের পাঁচ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সন্ধান মেলে। এর বেশ কিছুদিন পর করোনা মেলে চাপড়ার চারাতলা এলাকার এক বক্তির শরীরে। ফের করোনাভাইরাস পাওয়া যায় কল্যাণীর জেএনএমে ভর্তি থাকা কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা এক মহিলার শরীরে। স্বাস্থ্য দফতরে থেকে জেলায় করোনা আক্রান্তের তালিকায় এত দিন এই সাত জনের কথাই জানানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার সেখানে আচমকা আট জনের কথা বলে হয়। এবং সেই তালিকায় বাদ পড়েছেন কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা মহিলা। সেই জায়গায় করিমপুর-১ ও চাকদহ এলাকার দু’জনের কথা বলা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়, ওই দু’জনের মধ্যে মার্চে করিমপুরের এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কল্যাণীর গাঁধী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে তাঁকে কলকাতার আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখানে সপ্তাহ খানেক পরে তাঁর জ্বর আসে। লালারসের নমুনা পরীক্ষার করোনারিপোর্ট পজেটিভ ধরা পড়ে। বর্তমানে সুস্থ হয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে এসেছেন। গত এপ্রিল মাসে আক্রান্ত হন চাকদহের এক বসিন্দা। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি আরজিকর মেডিক্যাল কলেজেই ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তিনিও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। জেলা স্বাস্থ্য দফতর আরও জানিয়েছিল, কাঁচরাপাড়ার মহিলার চিকিৎসা নদিয়ায় হলেও তিনি এই জেলাতে সংক্রমিত হননি বলে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।