Advertisement
E-Paper

বার্তা দিয়ে সাজছে ‘মন্ত্রীর সংশোধনাগার’ 

কৃষ্ণনগরের মত পাত পেরে মাছ, মাংস সহযোগে নানা পদকে লোভনীয় করে তোলার পাশাপাশি খিচুড়ি, পায়েস, নানা আনাজের ডালনা, নানা রকম ভাত, ঘুঘনি আস্বাদও চেটেপুটে উপভোগ করতে পারবেন বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের প্রায় ২৫০০ বন্দি।

প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২০ ০০:০৮
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

স্বাভাবিক জীবনযাপনে ছন্দপতন ঘটিয়েছে করোনা। তা থেকে বাদ পড়তে পারে না বাংলার অন্যতম প্রধান উৎসবও। তার মাঝেও উমাকে ঘরে স্বাগত জানাতে ব্যস্ততার অন্ত নেই পাঁচিল ঘেরা জীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা মানুষগুলির। কারণ, পুজোয় সংশোধনাগার চত্বরকে সাজানো-গোছানোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন তাঁরা। ঘটনাচক্রে, তা কারামন্ত্রীর এলাকার সংশোধনাগার।

করোনা আবহে সরকারি বিধিনিষেধ সঙ্গী করে বাঙালির অন্যতম প্রধান উৎসবের আয়োজন হচ্ছে কৃষ্ণনগর জেলা সংশোধনাগারে। আয়োজনের প্রায় সবটাই করছেন দিনরাত সেখানে কাটানো মানুষজন। সে কাজে চাহিদা অনুসারে সামগ্রীর যোগান দিচ্ছেন সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে প্রায় সব কিছুই নিত্য প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রীর অংশ। অনেকক্ষেত্রে তা পুনরায় ব্যবহার করে মণ্ডপের সৌন্দর্যায়নের কাজ করছেন বন্দিরা। কী কী সামগ্রী আর তাতে কী তৈরি হচ্ছে?

চায়ের কাপ, চটাই আর নাইট ল্যাম্প ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ঝাড়বাতি। থার্মোকলকে নানাভাবে কেটে তার সঙ্গে আঠা আর নানা ধরনের কাগজ জুড়ছেন বন্দিরা। সেসব করে পরিবেশ, দূষণ, কোভিড সচেতনতার বার্তাবহ সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। যা পুজো-প্রাঙ্গণকে শোভিত করে তোলার সঙ্গেই বন্দি থেকে কর্মী-আধিকারিক-সকলেই নানাভাবে সচেতন করবে। সঙ্গে নানা ফুলের ডালি সাজছে আলুর বস্তা থেকে। মণ্ডপে প্রতিমা আসবে কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি থেকে। উৎসবের দিনে পাত পেড়ে খাওয়াদাওয়ার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে সংশোধনাগারে। মাছ, মাংসের নানা পদ থাকবে। সঙ্গে খিচুড়ি, কচুড়ি, চাটনির মত নানা সুস্বাদু পদও প্রায় ১২৫০ বন্দির পাতে পড়বে। প্রয়োজনে রান্নার পদে বদল হতে পারে। আর এই কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা উজ্জ্বল বিশ্বাসই রাজ্যের কারামন্ত্রী। যিনি কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিধায়কও। ফলে কৃষ্ণনগর সংশোধনাগারকে অনেকে 'মন্ত্রীর সংশোধনাগার' বলে থাকেন। কারা দফতরের কর্তাদের মতে, রাজ্যের সব সংশোধনাগারেই দায়িত্বে রয়েছেন মন্ত্রী। ফলে একটি সংশোধনাগার খামোকা কেন মন্ত্রীর হবে! রাজ্যের মন্ত্রী তো কোনও না কোনও এলাকার বাসিন্দা হবেন, তা তো স্বাভাবিক, বলছেন অনেক কারা কর্তাও।

Advertisement

কৃষ্ণনগরের মত পাত পেরে মাছ, মাংস সহযোগে নানা পদকে লোভনীয় করে তোলার পাশাপাশি খিচুড়ি, পায়েস, নানা আনাজের ডালনা, নানা রকম ভাত, ঘুঘনি আস্বাদও চেটেপুটে উপভোগ করতে পারবেন বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের প্রায় ২৫০০ বন্দি। ইতিমধ্যে কে কবে কী কী রান্না করবেন, তার প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছেন বন্দিরা। আড়ম্বরহীন হলেও মণ্ডপে বাঁশ-রংবেরঙের কাপড় বাঁধার কাজ শুরু করেছে দিয়েছেন বন্দিরা। প্রতিমা অবশ্য আসবে বাইরে থেকে। তবে প্রতিমা দর্শন কিংবা মণ্ডপে যাওয়ার ক্ষেত্রে সময় বাঁধবেন সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। কোভিড-১৯'র প্রাদুর্ভাবের কারণে কোনও ভাবেই যাতে ভিড় না হয়, তার দিকে নজর দিতে হবে। সে কারণে এক একটি ওয়ার্ডের জন্য নিৰ্দিষ্ট সময় নির্ধারিত থাকবে বলে স্থির করেছেন সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। ভিতরের পাশাপাশি সংশোধনাগারের কর্মী-আধিকারিক এবং তাঁদের পরিবার-পরিজনেরা মিলেও বাইরে আয়োজন করছেন আরও একটি পুজোর। তার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন কর্মী-আধিকারিকরা। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি কৃষ্ণনগর আর বহরমপুর— দুই সংশোধনাগারে পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করার কথা কারামন্ত্রীর। কোমর বাধঁছেন বন্দিরা।

Correctional Institution
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy