করোনা আবহে সব বিধি উড়িয়ে কোথাও চলছে ফুটবল,কোথাও আবার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে ভিড় করছেন দর্শকরা। যেখানে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম সেই জায়গায় জন সংযোগের বড় সুযোগ জনপ্রতিনিধি বা নেতা-নেত্রীদের। তাই এই সুযোগে জন-সংযোগে মাঠে নামছে শাসক দলের নেতা-নেত্রী, জনপ্রতিনিধিরাও। বিরোধীরাও বলছেন ভোট বৈতরণী পার হতেই শাসকদলের এটি নতুন পন্থা। জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, ‘‘ভোটের আসলেই ওই দলটা জন সংযোগ যাত্রা করার জন্য খেলা, মেলা, বিভিন্ন সভার আয়োজন করে থাকে। তাদের অনুমতিরও প্রয়োজন পড়ে না। সরকারের তরফে সামাজিক দূরত্ববিধি, মাস্ক পরার জন্য বড় বড় কথা বলা হলেও, এক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ প্রহসন।’’
দিন কয়েক আগে রবিবার নৈশ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিলেন নওদার বাদশানগর এলাকার যুবকেরা। সেই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন। খেলার মাঠে ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য সঞ্জয় হালদার, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বজিৎ ঘোষ সহ অন্য জনপ্রতিনিধি ও দলের স্থানীয় নেতা, কর্মীরা। খেলার সূচনা পর্বে ব্যাট হাতে ছক্কা ও হাঁকেন সভাধিপতি। সেদিনের রাতের ক্রিকেটে সামাজিক দুরত্ব বিধির বালাই ছিলনা বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। ২ অক্টোবর আট দলের নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে নওদার ডাঙাপাড়ার একটি ক্লাব। চ্যাম্পিয়ন পাবে ২৫ হাজার টাকা ও ট্রফি এবং রানার্স দল পাবে ২০ হাজার টাকা ও ট্রফি, তাছাড়া রয়েছে অন্য পুরষ্কারও। স্থানীয় ডাঙাপাড়া- মুক্তারপুর হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত ওই ফুটবল টুর্নামেন্টেরও উদ্বোধক গ্রামের ছেলে জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ। মুর্শিদাবাদ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক বিশ্বজিৎ ভাদুড়ি বলেন, ‘‘করোনা আবহে খেলার কোনও ছাড়পত্র দেয়নি ক্রীড়া সংস্থা। জেলার যে সব ক্লাব ডিএসএ-র অনুমোদিত নয় তারাই বিধি ভেঙে খেলার আয়োজন করছে। প্রশাসনের উচিত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া।’’ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘‘ভোটে জিততে এসবের প্রয়োজন পড়বে না। দলনেত্রী ও সরকারের কাজ দেখেই মানুষ ভোট দেবেন। করোনা আবহে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ঘরবন্দি। যুব সম্প্রদায় কোথাও কোথাও খেলার আয়োজন করছে। আমন্ত্রণ করলে আমরা যাচ্ছি। কিন্তু বিধি মেনেই খেলার আয়োজন করতে বলা হচ্ছে।’’