করোনা-আবহে ঘরে-ঘরে এখন পালস অক্সিমিটারের চাহিদা। সকলেই তা কেনার জন্য হন্যে হয়ে উঠেছেন। ওষুধের দোকানে বিপুল চাহিদা ওই যন্ত্রের। অনেক জায়গায় স্টক শেষ। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এ দিয়ে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপা যায়। যেহেতু করোনার ফলে কিছু ক্ষেত্রে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার জন্য শরীরে অক্সিজেন কমে যেতে পারে। তাই করোনা হলে অক্সিজেনের পরিমাণ লাগাতার নজরদারিতে রাখা দরকার।
এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের ফলে মানুষ পালস অক্সিমিটার কেনার জন্য ছুটছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশের মতে, সাধারণত, ক্রিটিক্যাল কেয়ারে থাকা রোগীদের শারীরিক অবস্থার নজরদারিতে ওই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
চিকিৎসকেরা মনে করছেন, করোনা আবহে মানুষ ভীষণ ভাবে মোবাইল-নির্ভর হয়ে পড়েছেন। সেখানে করোনা ঠেকানোর নানা রকম পরামর্শ প্রচারিত হচ্ছে, ভাইরাল হচ্ছে। তারই সর্বশেষ সংযোজন, বাড়িতে হাতের কাছে পালস অক্সিমিটার মজুত রাখা ও তা দিয়ে বারে-বারে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপা। সেই সঙ্গে অনেকে আবার বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে রাখছেন।
এই প্রসঙ্গে কৃষ্ণনগরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তপন কুমার দাস বলেন “এটা একটা হুজুকে পরিণত হয়েছে। ঘরে-ঘরে অক্সিমিটার কেনার কোনও প্রয়োজন নেই। তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভবনা প্রবল। বরং মাস্ক ব্যবহার করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। তাহলেই হবে।’’ তাঁর কথায়, “খুব বেশি হলে পাড়ার ক্লাবে ওই যন্ত্র একটা কিনে রাখা যেতে পারে। যদি এলাকায় কেউ সমস্যায় পড়েন, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাহলে ক্লাব থেকে সেটা ব্যবহারের জন্য নিতে পারেন।’’
চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবসায়ী জয়দেব মোদক বলেন, “হঠাৎ করে পালস অক্সিমিটারের বিক্রি বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ। ফলে দাম চড়ছে। ৮০০ - ১৫০০ টাকার অক্সিমিটার বিক্রি হচ্ছে ১২০০-৫০০০ টাকায়। তা-ও দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছি না।” এই সুযোগে বাজারে অনেক খারাপ মানের ও জাল পালস অক্সিমিটারও এসে গিয়েছে বলে অভিযোগ।