Advertisement
E-Paper

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়েই ধানক্রয়

অন্যদিকে ধান কেনার সঙ্গে যুক্ত এজেন্সিগুলির ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ২ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিকটন।

সামসুদ্দিন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২১ ০৬:৫০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

একজন কৃষকও যাতে অভাবি বিক্রি না করেন সেই নির্দেশিকা দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো কী জেলায় সহায়ক মূল্যে ধান কেনা হয়েছে- সেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে মুর্শিদাবাদের আনাচ-কানাচে। গত মাসে মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে এসে বহরমপুরের দলীয় সভায় বলেছিলেন, ‘‘রাজ্যের কৃষকদের উৎপাদিত সব ধান কিনবে রাজ্য।’’ মুখ্যমন্ত্রী সে কথা বললেও আদতে কী তা সম্ভব হয়েছে? বিরোধীদের অভিযোগ, জেলার অনেক কৃষক সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারেননি। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষু্দ্র ও প্রান্তিক চাষিদের ঘরে মরসুমের শুরুতে ধান থাকে। কিন্তু সে সময় অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি ধান বিক্রি করতে পেরে ফড়েদের কাছে ধান বিক্রি করেছেন। যদিও প্রশাসন থেকে শাসকদল সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ামক রাজু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নিয়ম মেনে সহায়ক মূল্যে জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষির কাছ থেকে ধান কেনা চলছে। জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৪১ হাজার কৃষকের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মেট্রিকটন ধান কেনা হয়েছে। সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কারণে খোলা বাজারেও ধানের দাম
ভাল রয়েছে।’’

বিজেপির কৃষক সংগঠনের নবদ্বীপ জোনের কনভেনর তথা জেলা বিজেপির নেতা শাখারভ সরকার অবশ্য বলেন, ‘‘জেলার গরিব কৃষক ধান বিক্রি করতে পারেননি। ফড়ে ও জোতদাররা ধান বিক্রি করার সুযোগ পেয়েছেন।’’

যদিও জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর অশোক দাস বলেন, ‘‘জেলায় অভাবি বিক্রি হয়নি। সমস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে রাজ্য সরকার ধান কিনেছে। বরং কেন্দ্রীয় সরকার সহায়ক মূল্যে আমাদের জেলা থেকে ধান কেনেনি। ওরা ধান কিনলে কৃষকদের আরও সুবিধা হত।’’
জেলা খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে জেলায় ৩ লক্ষ ৯০ হাজার মেট্রিকটন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে রাজ্যের খাদ্য দফতর। ইতিমধ্যে ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩৮৭ মেট্রিকটন ধান কেনা হয়েছে। সূত্রের খবর কেন্দ্রীয় ধান ক্রয় কেন্দ্রে (সিপিসি)তে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ১ লক্ষ ৩০ হাজার মেট্রিকটন।

এখনও পর্যন্ত সিপিসিতে ধান কেনা হয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪৪ মেট্রিকটন। লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছনোর ফলে সিপিসি খোলা থাকলেও ধান কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ধান কেনার সঙ্গে যুক্ত এজেন্সিগুলির ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ২ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিকটন। সেখানে তাঁরা ধান কিনতে পেরেছেন ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৩ মেট্রিকটন।
শক্তিপুরের বাছড়া গ্রামের কৃষক সুকুমার মণ্ডল বলেন, ‘‘একদিকে খোলা বাজারে ধানের দাম কমের কারণে বিক্রি করিনি। অন্যদিকে খাদ্য দফতরে বার বার আবেদন জানানো সত্ত্বেও সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারিনি। ফলে ধার দেনা করে চাষের কাজ চালাতে হচ্ছে।’’

তবে জেলা খাদ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা অভাবি বিক্রি করতে বাধ্য হন। সেই অভাবি বিক্রি বন্ধ করতে এবং খোলা বাজারে ধানের বাজার দরের সমতা রক্ষার কারণে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা হয়। সেই মতো জেলায় ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৫২২ জন কৃষকের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ধান কেনা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের ঘরে বিক্রি করার মতো আর ধান নেই বললেই চলে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy