দোলের আগেই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন হতে চলেছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, আগামী ২ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে সড়কের সূচনা করবেন।
প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার ব্যয়ে তৈরি ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছ’লেনের সিগন্যাল-মুক্ত বেলঘরিয়া-কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার কাঁপা মোড় হয়ে বড় জাগুলিয়া পর্যন্ত অপর একটি সড়ক। সেটি আবার যুক্ত হয়েছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে উঠলে টানা গতিতে ছুটবে যান। মাঝপথে থামার ঝক্কি নেই। একাধিক উড়ালপুল, আন্ডারপাস ও সার্ভিস রোড মিলিয়ে নকশা করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে বেলঘরিয়ার নিমতা থেকে মুড়াগাছা পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তার কাজ হয়েছে। পাশাপাশি বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ‘এলিভেটেড’ সংযোগও তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মুড়াগাছা থেকে কাঁপা পর্যন্ত ৩০.৪৯ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে গোটা প্রকল্প শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও, হুগলি-কল্যাণী সংযোগকারী ঈশ্বর গুপ্ত সেতুর কাজে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগায় এই এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করতে কয়েক মাস অতিরিক্ত সময় লেগেছে।
বর্তমানে কল্যাণী এমস হাসপাতাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, মধ্যমগ্রাম হয়ে দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছতে সড়কপথে সময় লাগে প্রায় দু’ঘণ্টা। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে সেই পথ মাত্র ৪৫ মিনিটেই যাওয়া সম্ভব হবে। কল্যাণীর অ্যাম্বুল্যান্স চালক সুব্রত পাল বলেন, “গুরুতর রোগী নিয়ে বিমানবন্দরে বা কলকাতার বড় হাসপাতালে যেতে গেলে সবচেয়ে বড় চিন্তা থাকে ট্রাফিক। মাঝপথে বারাসত বা মধ্যমগ্রামে আটকে গেলে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এই রাস্তা পুরো চালু হলে অন্তত সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে।”
প্রশাসনের দাবি, এই করিডর চালু হলে বারাসতের যানজট এড়িয়ে উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রাও সহজ হবে। শিল্পাঞ্চল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র— সব মিলিয়ে শহর ও শহরতলির দূরত্বও কার্যতকমে আসবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)