শুধু বিধানসভায় পরাজয় নয়। নিজের পঞ্চায়েত এমনকি নিজের বুথেও পিছিয়ে রইলেন রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তাপসকুমার ঘোষ। বুথ ভিত্তিক ফলাফল সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল এবং তৃণমূলের অন্দরেই চর্চা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলে রয়েছেন তাপস। রানাঘাট ১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছাড়াও, ব্লক সভাপতি দায়িত্ব তিনি সামলেছেন এক দশকেরও বেশি সময়। অনেকেই
বলছেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাপসের ‘ডানা ছাঁটা’ হয়। সেই সময় তাঁর অনুগামীদের একাংশ দলের হয়ে ভোট ময়দানে নামেনি। কেউ কেউ আবার দলের নির্দেশ অমান্য করে নির্দল হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন। পরে অবশ্য এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠেন তিনি।
তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, এ বারের নির্বাচনের আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের টিকিট আদায় করেছিলেন তিনি। তাঁর হয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রানাঘাটে জনসভাও করেন। সেই সভামঞ্চ থেকে অভিষেক তাপসের হয়ে ভোট প্রার্থনা করেছিলেন।
অথচ মঞ্চে থাকা রানাঘাট উত্তর-পূর্বের প্রার্থী বর্ণালী দে রায় ও দক্ষিণের প্রার্থী সৌগত বর্মনের হয়ে প্রার্থী পরিচয় করেননি। দলে বিতর্কের সূত্রপাত তখন থেকেই।
রামনগর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১১ নম্বর বুথের ভোটার তাপস। নিজের বুথেই তিনি বিজেপির থেকে ১৬৮ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন। পঞ্চায়েতের মোট ভোটের নিরিখে সংখ্যাটা ৩৫৪৪। আর বিধানসভায় ৫৭,৫৫১।
কিন্তু কেন এমন ফল? তৃণমূলেরই একটা অংশ দাবি করছে, এমনটা হওয়ারই ছিল। কারণ, বিগত দিনে তাপস দলে থেকে দলেরই অপর গোষ্ঠীকে বিপদে ফেলেছেন। তাই তিনি প্রার্থী হওয়ার পরে তাঁরা তা সুদ সমেত ফিরিয়ে দিয়েছেন, অর্থাৎ কি না শঠে শাঠ্যং!
তবে এ বিষয়ে তাপসের বক্তব্য, “বিতর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইছি না। তৃণমূলের পরাজিত সকল প্রার্থী তাঁদের নিজের বুথে পিছিয়ে রয়েছেন।”
তাঁর দাবি, ইভিএম যন্ত্রে কিছু একটা হয়েছে। কারণ, সংখ্যালঘু ভোটেরও একটা বড় অংশ বিজেপিতে গিয়েছে। পাল্টা বিজেপির জয়ী প্রার্থী পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ওঁরা মানুষের রায়কে মানতে পারছে না।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)