নোটের কোপ এ বার নাটকেও!
রঘুনাথগঞ্জে পাঁচ দিনের নাট্যোৎসবের আয়োজন করে বিপাকে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। ২ ডিসেম্বর থেকে প্রতি সন্ধ্যায় স্থানীয় রবীন্দ্রভবনে মঞ্চস্থ হচ্ছে নাটক। কিন্তু দর্শকের উপস্থিতি দেখে মাথায় হাত উদ্যোক্তাদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, রবীন্দ্রভবনে আটশো দর্শক বসতে পারেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে দর্শকের সংখ্যা ছিল সাকুল্যে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো।
মৈত্রী নাট্যোৎসবের অন্যতম কর্মকর্তা দিব্যেন্দু দাস বলছেন, ‘‘নোট বাতিলের তিন মাস আগেই আমরা যাবতীয় ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছিলাম। ঢাকা, কলকাতা, বীরভূম, হাওড়া-সহ বিভিন্ন এলাকার নাটকের দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে দিনক্ষণও ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই বাতিল নোটই যে এ ভাবে আমাদের ডুবিয়ে দেবে, ভাবতে পারিনি।’’
স্থানীয় নাট্যসংস্থা ‘নাট্যম শ্রদ্ধাঞ্জলী’ অন্য বার নিজেরা নাটক মঞ্চস্থ করলেও এই প্রথম মৈত্রী নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছে। আর প্রথম বারেই বড় ধাক্কা। প্রতি বছর রঘুনাথগঞ্চে নাট্যোৎসবের আয়োজন করে বিভিন্ন নাট্য সংস্থা। টিকিট বিক্রি, বিজ্ঞাপন ছাড়াও বহু ব্যবসায়ী সেই নাট্যোৎসবের আয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু এ বারে নোট বাতিলের জেরে পরিস্থিতি একেবারে বদলে গিয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘সংসার চালানোর টাকা জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছি। নাটক দেখব কী করে?’’ স্থানীয় ব্যবসায়ী অরুণ রায় বলছেন, ‘‘সত্যিই এ বার পরিস্থিতি খুব খারাপ। অন্য বছর দোকান বন্ধ করে আমরা সবাই মিলেই নাটকে যেতাম। কিন্তু এ বারে কাউকে জোর করতেই খারাপ লাগছে।’’
উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশ-সহ সমস্ত নাটকের দলের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া সহ যথেষ্ট খরচ হয়। সেই টাকা আসে টিকিট বিক্রি ও স্থানীয় লোকজনের সাহায্য থেকে। এ বারে কারও অবস্থা সুবিধের নয়। অনেকেই টিকিট কিনতে চাইছেন না। কেউ কেউ আবার পুরনো এক হাজার ও পাঁচশোর নোট ধরাতে চাইছেন। তাহলে উপায় কী?
দিব্যেন্দুবাবু বলছেন, ‘‘আমাদের সংস্থায় প্রায় ৫৩ জন সদস্য আছেন। দেখা যাক, নিজেরা চাঁদা তুলে কতটা কী সামাল দিতে পারি।’’