E-Paper

নাম তোলার লড়াই প্রাক্তন সেনাকর্মীরও

পরিবার সূত্রে খবর, বারিছন বিবির পরিবারে চার ছেলে নিয়ে মোট ১৩ জনের সংসার। নাম বাদ গিয়েছে সাত জনের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ার পরে কেউ মারা গিয়েছেন আর কেউ নতুন করে নাম তোলার জন্য লড়াই জারি রেখেছেন। নদিয়ার দুই প্রান্তে উঠে এল এমনই দুই ভিন্ন চিত্র। চাপড়ায় বিবেচনাধীন তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এক বৃদ্ধার মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মৃতের নাম বারিছন বিবি (৭১)। বাড়ি চাপড়ার হাঁটরা এলাকায়। পরিবারের দাবি, তাঁর পরিবারের সাত জনের নাম বাদ গিয়েছে। ২০০২ সালের তালিকাতে তাঁর নাম ছিল। এক সঙ্গে এতজনের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন। চিন্তা করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরিবার সূত্রে খবর, বারিছন বিবির পরিবারে চার ছেলে নিয়ে মোট ১৩ জনের সংসার। নাম বাদ গিয়েছে সাত জনের। বাদের তালিকায় বারিছনের নামও ছিল। ছেলে নাজমুল শেখ বলেন, “মায়ের এমনিতেই রক্তচাপ জনিত সমস্যা ছিল। আমাদের সাত জনের নাম কাটা যাওয়ার পরে চিন্তা করতে করতে রক্তচাপ কমে যায়। আমরা ৪ এপ্রিল মাকে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করি। আজ সকালে সেখানেই মার মৃত্যু হয়।”

নাজমুল বলেন, “মার এত তাড়াতাড়ি মৃত্যু হওয়ার মত শরীরের অবস্থা ছিল না। শুধু মাত্র এসআইআর-এর চিন্তায় অসুস্থ হয়েই মারা গেলেন।”

আবার দেশের সীমানা পাহারা দিতে দিতে জীবনের একটা বড় সময় কাটিয়ে দেওয়া প্রাক্তন সেনাকর্মী মিনারুদ্দিন দফাদার শুরু করেছেন ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই। কালীগঞ্জের মীরা এলাকার দফাদার পাড়ার বাসিন্দা মিনারুদ্দিন। বয়স ৭০ বছর। ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে প্রায় তিন দশক দেশের নানা প্রান্তে দায়িত্ব সামলেছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৩ সালের ২ মে রাষ্ট্রপতির শংসাপত্রও পেয়েছিলেন। এখনও তা যত্ন করে রেখে দিয়েছেন।

সেনা জীবনের কারণেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না বলে তার দাবি। তখন তিনি শ্রীনগরে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পরে ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল। হঠাৎই সাম্প্রতিক এসআইআর পর্বে পরিবারের অন্য সবারই নাম বহাল থাকলেও বাদ পড়েছে শুধু তাঁরই নাম। কেন, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মিনারুদ্দিনের মনে, আর তার সঙ্গে জুড়েছে ক্ষোভ-হতাশা।

মিনারুদ্দিন বলেন, “শুনানির জন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। আমি পাসপোর্ট, পেনশন অর্ডার সব জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু মনে হয়, কোনও নথিই ঠিকমতো দেখা হয়নি।” তবে থেমে থাকেননি তিনি। ইতিমধ্যেই ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। আইনি পথেই নাম ফের তালিকায় তোলার লড়াই শুরু করেছেন তিনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

chapra Kaliganj

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy