দুটি যাত্রিবাহী বাসের সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক শিশু-সহ তিন যাত্রীর। জখম অন্তত ১০ জন। বুধবার বিকেলে দুর্ঘটনাটি হয়েছে নদিয়ার ধুবুলিয়া থানার বাহাদুরপুর এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বিকেলে বহরমপুরগামী একটি যাত্রিবাহী বাসকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয় কৃষ্ণনগরগামী একটি যাত্রিবাহী বাস। বহরমপুরগামী বাসে থাকা সকল যাত্রীই কমবেশি আহত হন। কৃষ্ণনগরগামী বাসটি সংঘর্ষের অভিঘাতে রাস্তার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে দু’জনের মৃত্যু হয়। বাকি যাত্রীদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে এক জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক যাত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, জখম যাত্রীদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা হয়েছে প্রত্যেকের।
মৃত তিন যাত্রীর নাম-পরিচয় জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধুবুলিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা ৫০ বছরের ঝড়ু শেখের মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ গিয়েছে রফিদ শেখ নামে ৬ বছরের একটি শিশুর। মারা গিয়েছেন ২৫ বছরের যুবতী রোজিনা খাতুন। মৃত শিশু এবং যুবতীর বাড়ি সোনডাঙা এলাকায়। মৃত এবং আহতদের প্রত্যেকেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত বহরমপুরগামী বেসরকারি বাসটির যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষজনই প্রাথমিক ভাবে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ। আহতদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে।
সুবীর বিশ্বাস নামে এক আহত যাত্রী বলেন, “বাসটি ঠিকই যাচ্ছিল। বাহাদুরপুরের কাছে সজোরে একটা ধাক্কা পায় বাসটি। ঝাঁকুনিতে বাসের ভিতরে সকলেই ছিটকে পড়ি। কার সঙ্গে ধাক্কা লেগেছে, কী ভাবে দুর্ঘটনা কিছুই জানতে পারিনি তখন।’’
আরও পড়ুন:
দুর্ঘটনার ফলে বেশ কিছু ক্ষণ ধরে অবরুদ্ধ ছিল ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। রাস্তায় বাস এবং লরির লম্বা লাইন পড়ে যায়। সন্ধ্যা থেকে অবশ্য যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশি নজরদারির অভাবে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। অন্য দিকে, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সড়কে নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।