প্রায় তিন সপ্তাহের চেষ্টায় ‘গয়না চোর’কে পাকড়াও করল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। ধৃতের নাম মধুরিমা দাস। তাঁর সঙ্গেই ধরা পড়েছেন রাহুল চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। কলকাতা থেকে তাঁদের পাকড়াও করে বসিরহাট আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগ, বড় প্রতারণা এবং জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে দু’জন যুক্ত।
বাদুড়িয়া থানার চাতরা এলাকায় সুভাষ ভঞ্জ নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর ওই দোকানে সোনার হার কিনতে যান মধুরিমা। ব্যবসায়ীর বক্তব্য, ‘‘একটি নেকলেস পছন্দ করেছিলেন ওই মহিলা। দাম ছিল ৫৬ হাজার ৯০ টাকা। উনি বলেছিলেন, ‘বিল করুন। টাকা দিচ্ছি।’ ঠিক বিল করার সময়েই নেকলেস নিয়ে চম্পট দেন উনি।’’ সুভাষ জানান, বিল তৈরির সময় ওই মহিলা একটি ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। সেই নম্বরে ফোন করতে ফোন তুলেওছিলেন মহিলা। তিনি শান্ত ভাবে জানিয়েছিলেন, টাকা নিতেই গিয়েছেন কোথাও। একটু বাদে দোকানেই ফিরবেন।
তার পর কয়েক দিন কেটে যায়। আর মধুরিমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি স্বর্ণ ব্যবসায়ী। গত ১৬ ডিসেম্বর বাদুড়িয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগপত্রের সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার জন্য দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ জমা দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দৌড়ঝাঁপের পর কলকাতার একটি জায়গা থেকে অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে রাহুল নামে এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মধুরিমা এবং রাহুলের নামে বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। মধুরিমাই প্রতারণা চক্রের মূল চক্রী। এই ভাবেই বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা চুরি এবং প্রতারণা করে থাকেন। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েক জন রয়েছেন।
বুধবার ধৃতদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। টিআই প্যারেডের আবেদন করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের ধরা পড়ার খবর পেয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘পুলিশের উপর পূর্ণ আস্থা আছে। আমি চাই, পুরো চক্রটি পুলিশের হাতে ধরা পড়ুক। আমার মতো আর কোনও ব্যবসায়ী যেন এদের হাতে প্রতারিত না হয়।’’