শমসেরগঞ্জের হিংসায় নিহত হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাসের স্ত্রীকে বিজেপির মহিলা মোর্চার একটি অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে। তাঁদের গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে।
সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত বছর অশান্ত হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদ। হিংসা ছড়িয়েছিল জঙ্গিপুরের শমসেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানের মতো অঞ্চলে। শমসেরগঞ্জে এই অশান্তিতে প্রাণ হারান হরগোবিন্দ এবং চন্দন। সম্পর্কে তাঁরা পিতা-পুত্র। অভিযোগ, ঘরের ভিতর থেকে বাবা-ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ জনকে গত বছরের ডিসেম্বরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল জঙ্গিপুর আদালত। বিচারক এ-ও জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত রোষে ওই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে সে সময় বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে।
আরও পড়ুন:
বুধবার শমসেরগঞ্জের ধুলিয়ানে বিজেপির মহিলা মোর্চার একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। তার কেন্দ্রে ছিলেন স্বামীহারা দুই রমণী। শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন চন্দনের স্ত্রী। বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী সুতপা মুখোপাধ্যায় তাঁদের বরণ করে নেন। প্রকাশ্য দলীয় কর্মসূচিতে তাঁদের স্বাগত জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তা দিল বিজেপি। জেলা নেতৃত্বের দাবি, শাসকদলের সন্ত্রাসে স্বজনহারাদের পাশে থাকাই পদ্ম শিবিরের লক্ষ্য। শমসেরগঞ্জ থেকে এ বার বিজেপি প্রার্থী করেছে ষষ্ঠীচরণ ঘোষকে। মহিলা মোর্চার অনুষ্ঠানে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। মূলত তাঁর সমর্থনেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। বুথ স্তরে মহিলাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
হরগোবিন্দ এবং চন্দনের স্ত্রীদের পাশে নিয়ে দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী সুতপা বলেন, ‘‘শমসেরগঞ্জে এ বার পদ্ম ফুটছেই। হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাসকে কী ভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সকলে জানেন। তাঁদের স্ত্রী এমনি এমনি এই মঞ্চে আসেননি। বিজেপির হাত যাতে শক্ত হয়, তা নিশ্চিত করতে এসেছেন ওঁরা।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত