কিছু দিন আগেও ছিল বাড়ন্ত, আর এখন বাড়তি!
ভাগীরথী দুগ্ধ সমবায় সমিতি দিনে একবার দুধ কেনায় অতিরিক্ত দুধ নিয়ে বিপদে পড়েছেন গোয়ালারা। পোয়াবারো ব্যবসায়ীদের। কেমন?
সস্তায় মিলছে দুধ, ছানা, ক্ষির। ১২০ টাকার ছানা মিলছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। দুধের দামও কমেছে। তবে মুর্শিদাবাদের প্রতিষ্ঠিত মিষ্টি ব্যবসায়ীদের কয়েক জন জানালেন, তাঁরা সারা বছরের চুক্তিতে দুধ, ছানা বা ক্ষির কিনে থাকেন। তাতে জিনিসের মান ভাল থাকে। কিছুটা সস্তাও হয়। বেলডাঙা বাজারের প্রতিষ্ঠিত মিষ্টি ব্যবসায়ী মদনমোহন ঘোষের কথায়, ‘‘বছরভর চুক্তির ভিত্তিতে ১১০ টাকা কিলোগ্রাম দরে এক গোয়ালার কাছ থেকে ছানা কিনি। ফলে দুধের দাম কমা-বাড়ায় লাভ-লোকসানের কিছু নেই।’’ তবে সংখ্যাটা কম। ওই এলাকারই মিষ্টি ব্যবসায়ী বাচ্চু মণ্ডল জানালেন, কিছু দিন আগে বায়না করেও সময়ে ছানা মিলত না! আর এখন ব্যবসায়ীরা দুয়ারে এসে ‘আজকের মতো ছানাটা নিয়ে নিন’ বলে সাধছেন।
গত মঙ্গলবারই দুধ কেনা নিয়ে রাজনীতির অভিযোগে গোয়ালাদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল বহরমপুর। ওই দিন ভাগীরথী দুগ্ধ সমবায় সমিতির সামনে প্রায় তিনশো লিটার দুধ ফেলে বিক্ষোভ দেখান গোয়ালারা। জেলা কংগ্রেসের ডাকে সংগঠিত ওই কর্মসূচিতে গোয়ালারা অভিযোগ করেন, দুধ বিক্রি না হওয়ায় তাঁদের অনেকের সংসার সামলানো দায় হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসন বা রাজ্য মিল্ক ফেডারেশনকে বিষয়টি বারবার জানিয়েও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না!
এই পরিস্থিতিতে বেকায়দায় পড়েছে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে থাকা সমিতি ও গোয়ালারা। দুগ্ধ সমবায় সমিতির কর্তারা মানছেন, বহু গোয়ালার দুধ বেচে সংসার চলে। তার উপর এখন আষাঢ় মাস হওয়ায় বিয়ে, পৈতে, অন্নপ্রাসনের মতো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান এখন তেমন নেই। রমজানের উপবাস চলার ফলেও মিস্টির বেচাকেনা কম। বেলডাঙার মিষ্টি ব্যবসায়ী সমর ঘোষ বলেন, ‘‘সংখ্যালঘু প্রধান জেলা হওয়ায় এখানে মিষ্টির তুলনায় তেলেভাজা, জিলিপির চাহিদা বেশি। তারপরে আবার ভাগীরথী বন্ধ। গোয়ালারা সঙ্কটে পড়েছেন।’’ রানিনগরের শেখপাড়া বাজারের নজরুল ইসলাম মানছেন গোয়ালাদের মুখের দিকে চেয়েই তাঁরা একটু বেশি করে দুধ, ছানা কিনছেন।
বেলডাঙা স্টেশনের পাশেই রয়েছে ছানার বাজার। সেখানে দু’বালতি ছানা নিয়ে বসেছিলেন নওপুকুরিয়ার দুষ্টু ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘‘সকাল থেকে দু’বালতি ছানা নিয়ে বসে আছি। দুপুর গড়ালেও ক্রেতা পেলাম না!’’ পাশে বসা মনোতোষ ঘোষ জানালেন, এখন পাড়ার গলিতে গলিতে বালতি ভর্তি ছানা নিয়ে ঘুরছেন! তিনি বলেন, ‘‘বেলা গড়ালে ৫০, ৬০ টাকা কিলোগ্রাম দরেও ছানা বেচেছি। গরুর খাবার কিনে চাল, তেলের আর পয়সা থাকছে না।’’
কবে পরিস্থিতি বদলায়, সে দিকেই চেয়ে গোয়ালারা।