পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার পরে কেটে গিয়েছে এক বছরেরও বেশি সময়। এত দিনেও নির্ভুল মার্কশিট হাতে পেলেন না চাপড়া বাঙালঝি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী রীতা গড়াই। মার্কশিট না দেখাতে পারায় কোনও বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তির সুযোগ মেলেনি রীতার। কবে তা মিলবে, সে ব্যাপারেও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রীতার দাবি, নির্ভুল মার্কিশিটের জন্যে চাপড়া থেকে অন্তত বারো বার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছে সে। বিনিময়ে শুকনো প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলেনি। কেন এক বছরের মধ্যেও নির্ভুল মার্কশিট দিতে পারবে না বিশ্ববিদ্যালয়? এই প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা। প্রসঙ্গ এড়িয়ে এ বারও তাঁরা দ্রুত মার্কশিট পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
চাপড়া বাঙালঝি কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে কলেজ থেকে পাস কোর্সে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়েছিলেন রীতা। পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল কৃষ্ণনগর দ্বিজেন্দ্রলাল কলেজ। ওই বছরের ১২ জুলাই রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ইতিহাস, দর্শনে পাশ করলেও সংস্কৃতে সে অনুপস্থিত! সেই শুরু। সে দিনই রীতা যোগাযোগ করে চাপড়া বাঙালঝি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। কলেজের পরামর্শে যোগাযোগ করে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাদের সঙ্গে। কী করে এমনটা হল, সদুত্তর দিতে পারেননি তাঁরা। রীতার বলেন, ‘‘ঠিক করেছিলাম দিল্লি বোর্ড থেকে সংস্কৃতে এমএ পাঠ্যক্রমে ভর্তি হব। গত বছর ভর্তি হতে পারিনি। এ বছর ৩১ অগস্ট ভর্তির শেষ দিন ছিল। মার্কশিট না পাওয়ায় এ বারও বছর নষ্ট হল!’’
সংস্কৃত পরীক্ষায় ওই পরীক্ষার্থী যে বসেছিল, তার কী প্রমাণ রয়েছে— বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে সেই প্রমাণ দিতে বলে। বাঙালঝি কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দ্বিজেন্দ্রলাল কলেজ থেকে পরীক্ষায় বসার প্রমাণ সংগ্রহ করে সে আবারও দেখা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দেয়। তারপর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক মাস। কেন এত দিনেও মার্কশিট পেল না পরীক্ষার্থী?
বাঙালঝি কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণগোপাল রায় বলেন, ‘‘মেয়েটি পরীক্ষা যে দিয়েছিল সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার সব রকমের প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ে জমাও দিয়েছে। আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অনুরোধ করে এসেছি।’’ তারপরেও কেন এমনটা হচ্ছে, বিষ্মিত তিনিও। এই সব টানাপড়েনে যেতে চান না রীতা। তাঁর একটাই দাবি, দ্রুত তাঁর হাতে মার্কশিট তুলে দেওয়া হোক।
কিন্তু কেন এমনটা হল? কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে? সুদুত্তর দিতে পারেননি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক সঞ্জীব দত্ত। তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’’ একই সঙ্গে তাঁর আশ্বাস, যত দ্রুত সম্ভব মেয়েটির হাতে নির্ভুল মার্কশিট তুলে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যাঁর বা যাঁদের গাফিলতিতে এটা হল, তাঁদের শাস্তি হবে না? জবাব মেলেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে।