Advertisement
E-Paper

মা মরে গেলে হাসব না কাঁদব, আদালতে প্রশ্ন নিহতের মেয়ের

‘মা মারা যাওয়ার পরে তাঁকে কি জড়িয়ে ধরে কাঁদলে?’ অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী ‌রণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের প্রশ্নটা শেষ হতেই রীতিমতো ফুঁসে উঠল নদিয়ার ঘুঘড়াগাছিতে নিহত অপর্ণা বাগের ছোট মেয়ে দেবীকা বাগ।

নিজস্ব সংবাদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ অগস্ট ২০১৫ ০১:১৩

‘মা মারা যাওয়ার পরে তাঁকে কি জড়িয়ে ধরে কাঁদলে?’

অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী ‌রণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের প্রশ্নটা শেষ হতেই রীতিমতো ফুঁসে উঠল নদিয়ার ঘুঘড়াগাছিতে নিহত অপর্ণা বাগের ছোট মেয়ে দেবীকা বাগ। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল দেবীকাও, ‘‘মা মরে গিয়েছে। আমরা হাসব না কাঁদব? কেঁদেছি।’’

রণেন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘‘তুমি মিথ্যে কথা বলছ। শেখানো কথা বলছ। তোমরা তখন মামার বাড়ি ছিলে।’’

এ বার যেন ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। ভরা এজলাসে কেঁদে ফেলল নবম শ্রেণির ছাত্রী দেবীকা। বিচারকের উদ্দেশে সে বলে, ‘‘ওরা আমার চোখের সামনে মাকে গুলি করল। আর আমি মিথ্যে কথা বলব? আমরা মামার বাড়ি ছিলাম না। বাড়িতেই ছিলাম।’’

শুক্রবার কৃষ্ণনগরের জেলা আদালতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (তৃতীয়) পার্থসারথী মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে সাক্ষ্য দিতে এসে অপর্ণা বাগের দুই মেয়ে নীলিমা বাগ ও দেবীকা বাগ কখনও রাগে ফুঁসে উঠল, কখনও আবার কান্নায় ভেঙে পড়ল।

গত বছর ২৩ নভেম্বর জমির দখল রুখতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কৃষ্ণগঞ্জের ঘুঘড়াগাছির বাসিন্দা অপর্ণা বাগ। এ দিন সেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল। এতদিন যাঁরা সাক্ষী দিয়েছেন তাঁদের সিংহভাগকেই বিরূপ ঘোষণা করেছেন বিচারক। অপর্ণা বাগের দুই মেয়ের নাম চার্জশিটে ছিল না। দু’দিন আগে পুলিশ ‘সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট’ জমা দেয়। সেখানেই এই দু’জনের নাম রাখা হয়। সেই মতোই সমন পেয়ে এ দিন সাক্ষ্য দিতে এসেছিল নীলিমা বাগ ও তার বোন দেবীকা বাগ। কিন্ত শুরুতেই তাদের সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে আপত্তি তোলেন রণেন্দ্রনাথবাবু। তাঁর এই আপত্তি খারিজ করে দেন বিচারক।

সরকার পক্ষের আইনজীবী বিকাশ মুখোপাধ্যায়ের জেরায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নীলিমা বাগ জানায়, ঘটনার সময় সে তার বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে বাড়িতে ছিল। লোকজনের মুখে খবর পায় যে, তাদের জমি জোর করে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। সেই খবর পেয়ে তারা সকলেই ছুটে যায় মাঠের দিকে। সে দেখে তিনটে ট্রাক্টর নিয়ে তাদের জমি চাষ করা হচ্ছে। অপর্ণা বাগ বাধা দিলে লঙ্কেশ্বর ঘোষেরা গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মা অপর্ণা বাগ মারা যান। জখম হয় তিন জন। ধৃতেরা ছাড়াও মাঠে তখন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ছিল। এরপরেই সে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত লঙ্কেশ্বর ঘোষকে শনাক্ত করে।

বিচারকের নির্দেশে নীলিমা আসামীর কাঠগড়ার কাছে গিয়ে সকলকে ভাল করে দেখে জানায়, সে সবাইকেই চেনে কিন্তু নাম বলতে পারবে না। সেই সময় আসামীর কাঠগড়ায় এই মামলায় অভিযুক্তদের পাশাপাশি অন্য একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীও দাঁড়িয়েছিল। তাকে দেখিয়ে নীলিমা বলে, ‘‘এই লোকটা কিন্তু ছিল না।’’ এরপরে রণেন্দ্রনাথবাবুর জেরায় সে জানায়, তারা যখন মাঠের দিকে যাচ্ছিল তখন তারা তিনজন একসঙ্গে পাশাপাশি ছিল কাছ থেকেই তারা গুলি ছুঁড়তে দেখে।

এরপরে সাক্ষ্য দিতে এসে সরকার পক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের উত্তরে একই কথা জানায়, অপর্ণা বাগের মেয়ে দেবীকা বাগ। সেও লঙ্কা ওরফে লঙ্কেশ্বরকে শনাক্ত করে। তার দিদির মতো ধৃত অন্যান্যদের শনাক্ত করলেও তাদের নাম বলতে পারেনি। এ দিন দুই অপর্ণাদেবীর দুই মেয়ে ছাড়াও সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন এএসআই শুভেন্দু গোস্বামী ও প্রবীর সরকার। সোমবার ফের এই মামলার শুনানি হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy