সরকারি ভাবে হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবসে’র অনুষ্ঠানে আজ, শনিবার এবং পরের দিন ‘যোগ দিবসে’ কলকাতায় নানা কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এর আগে শুক্রবার মোদী নিজেই তাঁর এই সফরের কথা জানিয়ে এক দিকে, উন্নয়নের বার্তা যেমন দিয়েছেন, তেমনই বিশেষ ভাবে তুলে ধরেছেন পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্বের কথা। প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পরে বার বার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের উন্নয়নের কথা বলেছেন দলের নেতৃত্ব। এই প্রেক্ষিতে মোদীর সফরকালে উন্নয়ন-বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ।
মোদী এ দিন বলেছেন, ‘২০ জুন তারিখটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের কারণে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠানটি হবে তারকেশ্বরে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সংযোগ এবং পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর চেষ্টার কারণে জায়গাটি ঐতিহ্যবাহী। তারকেশ্বরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা করা হবে।’ তারকেশ্বর থেকে দেশের কৃষকদের জন্য পিএম-কিসান প্রকল্পের ২৩তম কিস্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা,প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা-সহ কৃষিক্ষেত্র সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কয়েকটি রেল ও সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধনকরার কথা রয়েছে মোদীর। রাতে, মোদীর রাজভবনে থাকার কথা।পরের দিন, ২১ তারিখ, কলকাতায় যোগ দিবসের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি যুদ্ধজাহাজকে জলে ভাসানোর বিষয়েও ছাড়পত্র দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রেক্ষিতে মোদী বলেছেন, ‘এই যুদ্ধজাহাজগুলি আমাদের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আমাদের সঙ্কল্পকেও তুলে ধরে এগুলি।’
এরই মধ্যে এ দিন তারকেশ্বর-সহ রাজ্যে বৃষ্টির ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফর ঠিকঠাকই হবে। আমাদের এখানে এই সময় বর্ষা হয়। ব্যবস্থাপনায় আমরা সবাই যুক্ত আছি। সব মিলিয়ে আমরা আশাবাদী যে, কর্মসূচি সুন্দর ভাবেই হবে।” বৈদ্যবাটী-তারকেশ্বর রাস্তার পাশে বালিগোড়ির বৈদ্যপুরে মোদীর সভা করার কথা। বৃষ্টিতে এ দিন সভাস্থলে জল জমে যাওয়ায়, কাজে সামান্য ব্যাঘাত ঘটে। তবে সভাস্থলপরিদর্শনে গিয়ে রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দার জানিয়েছেন, সভা আয়োজনে সমস্যা হবে না। হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, পুলিশ সুপার (হুগলি গ্রামীণ) কুনওয়ারভূষণ সিংহ, তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান সভাস্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সভা হচ্ছে চাষের জমিতে। এখন অবশ্য সেখানে কোনও ফসল নেই। পাম্প লাগিয়ে, নালা কেটে জমা জল বার করা হচ্ছে। সভামঞ্চের পাশেই তৈরি হয়েছে হেলিপ্যাড।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)