Advertisement
E-Paper

ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে বিধানসভায় বিল পাশের আগেই মামলা হল হাই কোর্টে, আপত্তি শংসাপত্র যাচাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে

ওবিসি সার্টিফিকেট যাচাই সংক্রান্ত নতুন আইন নিয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার সোমবার শুনানি হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ২০:৩৮

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নতুন করে ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) শংসাপত্র যাচাই নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে। মামলাকারীর বক্তব্য, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সঙ্গে আলোচনা না করেই সরকার নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ওই সিদ্ধান্ত আইন মেনে হয়নি বলেও অভিযোগ আবেদনকারী পক্ষের।

ওবিসি সার্টিফিকেট যাচাই সংক্রান্ত নতুন আইন নিয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার সোমবার শুনানি হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। সোমবার প্রথমে সিপিএমের করা একটি মামলার শুনানি হয়। সেই সময় আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ২০১১ সালের পর রাজ্যে যে ওবিসি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, তা আগেই বাতিল করা হয়েছে। বেঞ্চ বলে, ‘‘ওই পুরো প্রক্রিয়াই আমরা বাতিল করেছি। এখন নতুন করে ওবিসি অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।’’

সিপিএমের আইনজীবী অবশ্য দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে বিতর্কের মূল বিষয় যাচাই বা ভেরিফিকেশনের পদ্ধতি। গোটা বিষয়টি নতুন করে খোলা উচিত নয়। শুনানি শেষে সেই মামলাটি দু’সপ্তাহ পরে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। এর কিছু ক্ষণ পরই মামলাটি পুনরায় বেঞ্চে উপস্থাপিত হয়। এ বার এক নতুন আবেদনকারী রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করেন। আদালত জানতে চায়, তিনি কোন পক্ষের হয়ে হাজির হয়েছেন। একই সঙ্গে বিচারপতিরা মনে করিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের আগের রায় বহাল রাখায় পুরনো মামলাগুলি কার্যত অর্থহীন হয়ে গিয়েছে। রাজ্যও সেই রায়ের ভিত্তিতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের মতামত ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। অথচ রাজ্য সরকার কমিশনের সঙ্গে কোনও পরামর্শ না করেই নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।’’ তাঁর অভিযোগ, এটি ‘কালারেবল এক্সারসাইজ় অফ পাওয়ার’, অর্থাৎ ক্ষমতার অপব্যবহার! আদালত মামলাটি মঙ্গলবার শুনানির জন্য রাখতে চাইলে আবেদনকারীর আইনজীবী জরুরি শুনানির আর্জি জানান। তিনি বলেন, ‘‘সোমবারই বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট বিলটি পেশ করা হচ্ছে। বিলটি পাশ হয়ে গেলে এই মামলা কার্যত অর্থহীন হয়ে যাবে। এমনকি, রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা ‘বিশেষ অনুমতি আবেদন’ (স্পেশাল লিভ পিটিশন বা এসএলপি) প্রত্যাহার করে নিতে পারে।

প্রসঙ্গত, ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় জোড়া সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে। বিধানসভায় বিল পেশ করেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। প্রথমে মনে করা হয়েছিল বিলটি নিয়ে ধ্বনিভোট হবে। তবে সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে এটি নিয়ে ভোটাভুটি বা ডিভিশন চান আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর আবেদনে সম্মতি দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। কালীঘাট তৃণমূল ভোটাভুটিতে অংশ নিলেও কক্ষত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিধায়কেরা। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১৮৬টি, বিপক্ষে ১৭টি। ভোটদান থেকে বিরত থাকেন ছ’জন।

তৃণমূল জমানার ২০১২ সালের ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের লক্ষ্যে সোমবার বিধানসভায় পেশ করা হয়েছিল দুই সংশোধনী বিল। সেগুলি হল, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজ়ার্ভেশন অফ ভ্যাকান্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। ওবিসি সংরক্ষণের জন্য ক্যাটেগরি ‘এ’-র আওতায় মোট ৬৫টি জনগোষ্ঠী রয়েছে। তৃণমূল জমানায় তৈরি আইনে ক্যাটেগরি ‘বি’-তে রয়েছে ৭৮টি জনগোষ্ঠী। ১১৩টি জনগোষ্ঠীর সেই তালিকা সম্বলিত তফশিল বা ‘শিডিউল ওয়ান’ বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন বিলে। পাশাপাশি অনগ্রসর কমিশনে কোনও গোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

OBC OBC Certificate Calcutta High Court OBC Reservation

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy