সপ্তাহখানেক আগে ভাঙড়ে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার দিল্লিতে এনআইএ-র তরফে মামলা রুজু করা হয়েছে। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতারও করেছে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ। গত রবিবার বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেছিলেন এনআইএ-র আধিকারিকেরা। ওই দিন তাঁরা বিজয়গঞ্জ বাজার থানার আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেন। প্রাথমিক ভাবে গোয়েন্দাদের অনুমান, এই বিস্ফোরণের পিছনে বড় ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। ঘটনাস্থলথেকে এমন কিছু পদার্থ উদ্ধার হয়েছে, যা দেখে গোয়েন্দারা সমগ্র ঘটনার নেপথ্যে আন্তঃরাজ্য চক্রেরসক্রিয় থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
গত ১৮ মার্চ রাতে পর পর একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বিজয়গঞ্জ বাজার থানা এলাকার চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের দক্ষিণ বামুনিয়া খালপাড়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিস্ফোরক-সহ বিভিন্ন দাহ্য বস্তু উদ্ধার করলেও আহত কাউকে উদ্ধার করেনি। তবে, প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানতে পারে, ওই ঘটনার পরে হাড়োয়া থানার সোনাপুকুর-শঙ্করপুর পঞ্চায়েতের ঝুঝুরগাছা এলাকায় মেছো ভেড়ির পাশে মশিউর গাজি নামে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত দেহ মিলেছে।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, দক্ষিণ বামুনিয়া খালপাড় এলাকায় বিস্ফোরণের পরে আহতদের বিভিন্ন এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাস্তায় মশিউরের মৃত্যু হওয়ায় তাঁকে হাড়োয়ার ওই এলাকায় ফেলে যায় দুষ্কৃতীরা। তবে, বিস্ফোরণের ফলেই মশিউরের মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা জানার জন্য বিস্ফোরণস্থল থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার পাশাপাশি তাঁর ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধারের ঘটনায় হাড়োয়া থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাও রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, এই বিস্ফোরণের ঘটনায় গত শনিবার সুরজ মোল্লা নামে এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককে গ্রেফতার করে বিজয়গঞ্জ বাজার থানা। অভিযোগ, সুরজের গাড়িতে করেই বিস্ফোরণে আহতদের ঘটনাস্থল থেকে সরানো হয়েছিল। অন্য দিকে, মঙ্গলবার দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকারই একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৪টি বোমা এবং একটি বন্দুক। সেই ঘটনায় বিজয়গঞ্জ বাজার থানায় একটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
এনআইএ সূত্রের দাবি, দক্ষিণ বামুনিয়া খালপাড় এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে মশিউর গাজির দেহ উদ্ধার এবং বোমা উদ্ধারের ঘটনার যোগসূত্র আছে কিনা, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে দু’টি মামলাই এনআইএ নিতে পারে বলেও সূত্রের তরফে দাবি করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)