Advertisement
E-Paper

টয়ট্রেন নিয়ে প্রচারই নেই, কমেছে পর্যটক

দশ দিন ধরে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সরাসরি টয়ট্রেন চলছে। একদিন বাদে বাকি কোনও ট্রেনের তিনটি কামরা মিলিয়ে যাত্রী সংখ্যা কুড়ি পার হয়নি। এ দিন রবিবার শুধুমাত্র যাত্রী সংখ্যা ছিল চল্লিশের কাছাকাছি। দু’টি প্রথম শ্রেণি এবং একটি সাধারণ সহ তিনটি কামরায় ৭০ জন্য যাত্রী বসার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ দশ বারো-পনেরো বা আঠারো জন যাত্রী নিয়ে টয়ট্রেন চলাচল করছে।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:২৬
রবিবার শিলিগুড়িতে। নিজস্ব চিত্র।

রবিবার শিলিগুড়িতে। নিজস্ব চিত্র।

দশ দিন ধরে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সরাসরি টয়ট্রেন চলছে। একদিন বাদে বাকি কোনও ট্রেনের তিনটি কামরা মিলিয়ে যাত্রী সংখ্যা কুড়ি পার হয়নি। এ দিন রবিবার শুধুমাত্র যাত্রী সংখ্যা ছিল চল্লিশের কাছাকাছি। দু’টি প্রথম শ্রেণি এবং একটি সাধারণ সহ তিনটি কামরায় ৭০ জন্য যাত্রী বসার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ দশ বারো-পনেরো বা আঠারো জন যাত্রী নিয়ে টয়ট্রেন চলাচল করছে। এই রুট লাভজনক নয় বলেই রেল কর্তাদের দাবি। তবে অন্তত অর্ধেক যাত্রী না হলে ট্রেন চলাচলের ‘উপযোগিতা’ই থাকে না। যাত্রী সংখ্যা কমের কারণে রেলের অপেশাদারি মনোভাবকেই দায়ী করেছেন অনেকে।

গত ২ ডিসেম্বর থেকেই ফের শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয়ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার রেল যাত্রার সূচনা করেন। প্রথম দিন ট্রেন চলা শুরুর সময় দুই কামরা মিলিয়ে যাত্রী সংখ্যা ছিল ১৫ জন। এ ভাবে চললে কতদিন ট্রেন চালানো স্বাভাবিক রাখা যাবে তা নিয়েই প্রশ্ন রেল কর্তাদের। যদিও, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রী সংখ্যা কম থাকলেও ট্রেন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রেলের তরফে অবশ্য কেউই আশঙ্কা বা উদ্বেগ প্রকাশ করতে চাননি। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের নিউ জলপাইগুড়ির এরিয়া ম্যানেজার পার্থসারথি শীলের কথায়, ‘‘নিয়মিত ট্রেন চলছে। রবিবার ভাল যাত্রী হয়েছে। টয়ট্রেন নিয়ে আমরা যথেষ্ট আশাবাদী।’’

শুরুর পরে এ দিন রবিবার ছুটির দিনেই যাত্রী সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। এ দিন শিলিগুড়ি জংশন ছাড়ার সময়ে ট্রেনে ত্রিশ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। টয়ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে রেলের অপেশাদার মনোভাবকেই দায়ী করছেন বিভিন্ন ভ্রমণ সংস্থা। তাদের দাবি, দার্জিলিং বা শিলিগুড়িতে আসা পর্যটকদের কাছে টয়ট্রেন আকর্ষণীয়। ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পরে আইআরসিটিসির টিকিট বুকিং ওয়েবসাইটেও টয়ট্রেনকে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়েছে। টয়ট্রেনের টিকিট বুকিং অথবা সময়সূচি সবই ওয়েবসাইটেই মিলে যায়। কিন্তু রেলের তরফে তার কোনও প্রচারই করা হয়নি বলে অভিযোগ। সে কারণে আইআরসিটিসির ওয়েবসাইটে টিকিট কাটতে অভ্যস্ত অনেকেই টয়ট্রেনের টিকিটের খোঁজ নিতে রেলের বুকিং কাউন্টারে ফোন ঘোরান। উত্তরবঙ্গের ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন এতোয়া-র কার্যকরী সভাপতি সম্রাট সান্যালের কথায়, ‘‘রেলের তরফে ট্যুর অপারেটর অথবা বিভিন্ন ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত চলা টয়ট্রেনকে নানা ভাবে প্যাকেজিং করা যেত।’’ সম্রাটবাবু জানান, শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙে টয়ট্রেন পৌঁছতে সময় লাগে অন্তত সাড়ে ৬ ঘণ্টা। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে পর্যটক এবং যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কিছু ব্যবস্থা করলেই ট্রেন যাতায়াতের আগ্রহ বাড়ত। যাত্রাপথে নানা দ্রষ্টব্য বুঝিয়ে দেওয়া, জল-চা দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা সহজেই করা যায় বলে ট্যুর অপারেটরদের দাবি।

Advertisement
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy