স্কুলে ডাকাতি করলে অনেক টাকা পাওয়া যাবে ভেবেই রানাঘাটের গাংনাপুর কনভেন্টে হামলা চালানো হয়েছিল। তবে কাউকে ধর্ষণ করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। গোয়েন্দাদের কাছে এমনই জানিয়েছে রানাঘাট-কাণ্ডের মূল চক্রী মিলন সরকার।
সিআইডি সূত্রের খবর, মিলন সরকার এবং তার দলবল রাজ্যের আরও কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। সিআইডি সূত্রের খবর, গত ১৩ মার্চ রানাঘাটের গাংনাপুরের একটি কনভেন্টে লুঠপাট চালায় ওই দল। বৃদ্ধা এক সন্ন্যাসিনীকে নির্মম ভাবে ধর্ষণ করা হয়। সেই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই কাণ্ডের মূল চক্রী মিলন সরকার এবং তার এক সঙ্গী ওহিদুল ইসলাম ওরফে বাবুকে। এর আগে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। শনিবার পর্যন্ত রানাঘাট কাণ্ডে মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করল সিআইডি।
সিআইডি সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারির শেষে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে এ রাজ্যে ঢোকে মিলন। সঙ্গে ছিল আরও আট জন। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ওই দুষ্কৃতীরা সকলেই বাংলাদেশের যশোরের বাসিন্দা। প্রথমে তারা মেদিনীপুরের খড়্গপুরে রাজ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার অফিসে ডাকাতি করে। পরে মালদহে গিয়ে সেচ দফতরের একটি অফিসে টাকা লুঠ করে তারা। মিলন গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, মালদহে ডাকাতির পর তার দলবল ৮ মার্চ রাতে বালুরঘাটের একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে হানা দিয়ে নৈশপ্রহরীদের বেঁধে লুঠপাট চালায়। ওই ঘটনার পরে হাবড়ার গোপাল সরকারের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান বসেই সে এবং রানাঘাট ধর্ষণ-কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত পলাতক নজু রানাঘাটের কনভেন্ট স্কুলে ডাকাতির পরিকল্পনা করে।
ভবানীভবনে গোয়েন্দাদের জেরায় মিলন জানিয়েছে, তাদের ধারণা ছিল ওই কনভেন্ট স্কুলে ডাকাতি করলে অনেকে টাকা পাওয়া যাবে। ঘটনার আগে তারা এক বার ওই স্কুল চত্বর ঘুরে দেখেও এসেছিল বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের অনুমান, স্থানীয় কোনও দুষ্কৃতী স্কুলের তথ্য সরবারাহ করেছিল মিলনদের।
মিলন অবশ্য আরও দাবি করেছে, ধর্ষণের উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। যদিও সে স্বীকার করেছে, ১৩ মার্চ রাত একটা নাগাদ তারা সাত জন দুষ্কৃতী দু’টি দলে ভাগ হয়ে পাঁচিল টপকে স্কুলে ঢোকে। তদন্তকারীদের সে বলেছে, স্কুলের ভিতরে কেউ জেগে রয়েছে কি না, তা জানতে প্রথমে স্কুলের ভিতরে ইট ছোড়ে তারা। কোনও সাড়া না মেলায় স্কুলের একতলায় ওঠে। স্কুলের নিরাপত্তারক্ষী তখন ঘুমোচ্ছিলেন। একতলার একটি ঘরে ওই স্কুলের কয়েক জন কর্মী এবং সন্ন্যাসিনীদের আটকে রাখে তারা। নিজের হাতেই সে সন্ন্যাসিনীদের বেঁধে ছিল বলেও জানিয়েছে মিলন। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এর মধ্যেই নিরাপত্তারক্ষী জেগে উঠলে তাঁকেও বেঁধে রাখে দুষ্কৃতীরা। মিলন জানায়, লুঠপাটের পরে পাঁচিল টপকেই পালিয়ে গিয়েছিল সে ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। রানাঘাট স্টেশন থেকে তারা তিনটে দলে ভাগ হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।
এক গোয়েন্দা কর্তার কথায়, ‘‘মিলন জানিয়েছে লুঠপাট চালানোর সময়েই নজু বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ করে। ওই ঘটনার জন্য সে নজুকেই সম্পূর্ণ ভাবে দায়ী করেছে।’’