একই পরিবারের ৯ জন করোনা আক্রান্ত হলেন। পড়শি পরিবারে সংক্রমিত হয়েছেন চার জন। মঙ্গলবার লালারস পরীক্ষার রিপোর্টে একই এলাকায় দুটি পরিবারের ১৩ জনের সংক্রমিত হওয়ার খবরে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের ভালুকাবাজারে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে লালারস পরীক্ষার রিপোর্টে জেলায় ৩০ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা যায়। তার মধ্যে ওই ব্লকে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন। তাঁদের মধ্যে একই এলাকার দুটি পরিবারের সদস্যরা সংক্রমিত হওয়ায় সেখানে টানা লকডাউনের দাবিতে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা। আক্রান্তদের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে। দফতর জানিয়েছে, নতুন যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের কারও তেমন কোনও উপসর্গ নেই বলে সকলকে গৃহ-নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে।
হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের বিএমওএইচ সাগর বসাক বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের উপরে নজর রাখবেন।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় এক জন প্রধান শিক্ষকের কয়েক দিন আগে লালারস পরীক্ষায় রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। তিনি গৃহ-নিভৃতবাসে রয়েছেন। তাঁর সংস্পর্শে আসা পরিবারের প্রত্যেকেরই লালারস সংগ্রহ করা হয়। আক্রান্ত ৯ জনই ওই পরিবারের। তাঁর স্ত্রী, ছেলে, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী রয়েছেন। রয়েছে চার বছরের ভাইঝিও। ওই শিক্ষক মিড ডে মিলের চাল বিলি, মাধ্যমিকের মার্কশিট বিলি করতে একাধিক বার স্কুলে গিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য দফতর!
একইসঙ্গে করোনা পজ়িটিভ হয়েছেন এলাকারই অন্য একটি পরিবারের চার জন। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই পরিবারের ২৭ বছরের এক যুবক কয়েক দিন আগে মারা যান। তাঁর জ্বর, শ্বাসকষ্ট ছিল। যদিও তিনি লালারস পরীক্ষার আগেই মারা যান। পরে পরিবারের লোকজন লালারস পরীক্ষা করলে তাঁদের রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে।
এমন ঘটনায় এলাকায় গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে বাসিন্দাদের একাংশের আশঙ্কা। তা রুখতে ভালুকাবাজারে টানা লকডাউনের দাবি উঠেছে।
(চলন্ত গড় বা মুভিং অ্যাভারেজ কী: একটি নির্দিষ্ট দিনে পাঁচ দিনের চলন্ত গড় হল— সেই দিনের সংখ্যা, তার আগের দু’দিনের সংখ্যা এবং তার পরের দু’দিনের সংখ্যার গড়। উদাহরণ হিসেবে—পশ্চিমবঙ্গে দৈনিক নতুন করোনা সংক্রমণের লেখচিত্রে ১৮ মে-র তথ্য দেখা যেতে পারে। সে দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ছিল ১২৮। কিন্তু সে দিন নতুন আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ছিল ১৪৮। তার আগের দু’দিন ছিল ১১৫ এবং ১০১। পরের দুদিনের সংখ্যা ছিল ১৩৬ এবং ১৪২। ১৬ থেকে ২০ মে, এই পাঁচ দিনের গড় হল ১২৮, যা ১৮ মে-র চলন্ত গড়। ঠিক একই ভাবে ১৯ মে-র চলন্ত গড় হল ১৭ থেকে ২১ মে-র দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যার গড় পরিসংখ্যানবিদ্যায় দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ সহজ ভাবে বোঝার জন্য এবং স্বল্পমেয়াদি বড় বিচ্যুতি এড়াতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়)
(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।
• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)