Advertisement
E-Paper

Tea: পাতা তোলার বাড়তি সময় দিল না

বিদেশের বাজারে চা রফতানি কমে যাওয়ায় বাজারে পতন শুরু হয়েছে বলে বোর্ডের দাবি।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:১০
মেয়াদ: আগামী ১৮ ডিসেম্বরেই শেষ হবে পাতা তোলা।

মেয়াদ: আগামী ১৮ ডিসেম্বরেই শেষ হবে পাতা তোলা। নিজস্ব চিত্র।

চা পাতার দাম নেই। বিভিন্ন চা বাগান কর্তৃপক্ষ এবং ছোট চা চাষিরা দাবি করেছিলেন, এ বছর শীতের শুরুতে অতিরিক্ত এক সপ্তাহ চা পাতা তুলতে দেওয়া হোক। সেই আর্জি রাখল না কেন্দ্রীয় চা পর্ষদ তথা টি বোর্ড। মঙ্গলবার চা পর্ষদ নির্দেশিকা জারি করেছে, আগামী ১৮ ডিসেম্বরেই এ বছরের মতো চা পাতা তোলা শেষ হয়ে যাবে। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চা পাতা তোলার অনুমতি ছিল। এ বছর মেয়াদ বাড়ানো তো দূরের কথা, একদিন কমানো হয়েছে। দার্জিলিঙের বাগানগুলিতে পাতা তোলা শেষ হবে আরও আগে, ডিসেম্বরের গোড়াতেই।

কেন এই সিদ্ধান্ত? টি বোর্ডের নিজস্ব যুক্তি, পাতার দাম ক্রমাগত কমছে। গতবারের তুলনায় নিলামে এ বার প্রায় ১০০ টাকা কম যাচ্ছে দর। বিদেশের বাজারে চা রফতানি কমে যাওয়ায় বাজারে পতন শুরু হয়েছে বলে বোর্ডের দাবি। বিদেশে রফতানি না হওয়া চা চলে এসেছে দেশের বাজারে। অথচ দেশের বাজারে সেই তুলনায় চাহিদা বাড়েনি। তার ফলেই দাম কমেছে। চা বোর্ডের দাবি, চা সংগঠনগুলির দাবি মেনে অতিরিক্ত এক সপ্তাহ চা পাতা তুলতে দিলে উৎপাদন আরও বাড়ত। কিন্তু চাহিদা সীমিত। তাই দাম আরও পড়ত বলে দাবি টি বোর্ডের। সেই সম্ভাবনা এড়াতেই পাতা তোলার সময়সীমা এ বার এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে উৎপাদন তথা জোগান এবং চাহিদার সমতা তৈরি সম্ভব হবে বলে বোর্ড মনে করছে।

যদিও এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ক্ষুদ্র চা চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠনের মুখপাত্র বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘গতবছরও চা পর্ষদ পাতা তোলা শেষের সময় এগিয়ে দিয়েছিল। তাতে দাম তো বাড়েইনি, উল্টে কমেছে। এ বছরও তাই চা পর্ষদের যুক্তি মানতে পারছি না।’’ আরও একটি দাবি তুলেছে এই সংগঠন। চা পর্ষদের এই নিয়ন্ত্রণ কেবল উত্তর ভারতের জন্য। দক্ষিণ ভারতে কোনও বাগানে নিয়ন্ত্রণ চাপানো হয়নি। বিজয়গোপালের কথায়, ‘‘এ সব নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক থেকে পর্ষদ— সবার কাছে চিঠি পাঠাচ্ছি।’’

ক্ষুব্ধ ডুয়ার্সের বড় চা বাগানিগুলিও। চা মালিকদের এক সংগঠনের কর্তা বলেন, ‘‘এ বছর বাজার মন্দা। পর্ষদের একটু সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল।’’ রাজ্যের চা উন্নয়ন কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান কৃষ্ণকুমার কল্যাণী বলেন, ‘‘চা পর্ষদ কবেই বা মাটির কথা শুনেছে। ওঁরা কেবল ঠান্ডা ঘরে বসে সব সিদ্ধান্ত নেয়।’’

পর্ষদের এক কর্তার কথায়, ‘‘অতিরিক্ত সময় দিলে যে বাড়তি উৎপাদন হবে তা কোন বাজারে বিক্রি হবে? দেশের চা অর্থনীতিই ভেঙে পড়ার জোগাড় হবে। কাজেই যা সিদ্ধান্ত হয়েছে তা একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy