আটাত্তর বছর ভারতের মানচিত্রে জায়গা পায়নি এ দেশের পাঁচটি গ্রাম। স্বাধীনতার পরে এই প্রথম ‘রেকর্ডে’ উঠতে চলেছে সে সব গ্রামের নাম। গ্রামগুলি রয়েছে ভারতে, কিন্তু সেখানকার জমির সব রেকর্ড রয়ে গিয়েছে বাংলাদেশে। দেশভাগের সময় ঘটে যাওয়া এমন বিভ্রাটের জেরে এত বছর জমির নকশা ছাড়াই রয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার দক্ষিণ দিনাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী পাঁচটি গ্রাম। বাংলাদেশের কাছে একাধিক বার রেকর্ড চাওয়া হলেও মেলেনি বলে সূত্রের দাবি।
২০১৫ ছিটমহল বিনিময়ের সময়েও রেকর্ড মেলেনি। অবশেষে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অশান্তি এবং পালাবদলের পরে রেকর্ড হস্তান্তরের অপেক্ষায় না থেকে এ দেশেই তৈরি হচ্ছে রেকর্ড। নেওয়া হচ্ছে উপগ্রহ থেকে ছবির সাহায্য। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, জমির রেকর্ড না থাকায় গ্রামগুলিতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজও থমকে রয়েছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, বাংলাদেশে পরিস্থিতির জেরে উন্মুক্ত সীমান্ত আর রাখতে রাজি নয় বিএসএফ। সে কারণে বিএসএফের তরফেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ‘নোট’ পাঠানো হয়েছিল।
জলপাইগুড়ির চিলাহাটি, কাজলদিঘি, নাওতরী-নবাবগঞ্জ, নাওতরী-দেবোত্তর এবং বড়শশী— এই পাঁচটি গ্রাম ‘বিতর্কিত’ বলে চিহ্নিত ছিল। দেশভাগের সময়ে এই পাঁচটি গ্রাম ভারতের অংশ থাকবে বলে স্থির হলেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গ্রামগুলির রেকর্ড তথা নথি চলে যায়। তখনও বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি। পরে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ তৈরি হয় এবং বাংলাদেশের সীমান্ত নির্ধারনের সময়ে দেখা যায়, ওই পাঁচটি গ্রামের নকশা তথা রেকর্ড বাংলাদেশে রয়েছে এবং ভারতের মূল ভূখণ্ডে থাকলেও গ্রামগুলি এ দেশের মানচিত্রে ঢোকেনি। ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়ের পরে এই গ্রামগুলি ভারতের মানচিত্রে চলে এলেও, বাংলাদেশ থেকে জমির রেকর্ড আসেনি। জমির রেকর্ড না থাকায় বাসিন্দাদের খতিয়ান নেই। তাই কোনও সরকারি প্রকল্প থেকে জমি কেনাবেচা বাসিন্দারা করতে পারেন না।
জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) হারিস রশিদ বলেন, “গ্রামের জমির সমীক্ষা করা হয়েছে। বিস্তারিত বিবরণ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানে যাচাই করে উপগ্রহ চিত্র দেখে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হবে।” দক্ষিণ বেরুবাড়ির গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুমিত্রা অধিকারী বলেন, “জমির রেকর্ড হয়ে গেলে বাসিন্দারা সব সরকারি সুবিধা পাবেন। প্রশাসন কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।”
বিতর্কিত বলে পরিচিত গ্রামগুলির জমির রেকর্ড দ্রুত তৈরি হোক চায় বিএসএফও। গ্রামগুলিতে কাঁটাতারের বেড়া নেই। বেড়া বসাতে গেলে জমি অধিগ্রহণ করতে চাইলে বাসিন্দারা বাধা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জমির খতিয়ান না পেলে অধিগ্রহণেও সম্মতি দেওয়া হবে না। এ দিকে, সীমান্তে পরিস্থিতির পরিবর্তনে দ্রুত বেড়া দিতে চায় বিএসএফ। দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত এলাকার স্বীকৃতির দাবিতে লড়াই চালানো দক্ষিণ বেরুবাড়ি প্রতিরক্ষা কমিটির সম্পাদক সারদা প্রসাদ দাস বলেন, “ভোটের আগেই কাজ শেষ হোক। না হলে ফের দেরি হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)