পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু ও একই পরিবারের সাত জন জখম হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে বাসিন্দাদের পথ অবরোধ-বিক্ষোভে তেতে উঠল হরিশ্চন্দ্রপুরের বালাপাথার।
তুলসিহাটা-ভালুকাবাজার রাজ্য সড়ক দিয়ে সোমবার রাতে স্টেশন থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ওই আট পথচারী। সেই সময়ই বালাপাথরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের পিষে দেয় একটি পিক আপ ভ্যান। সকালে ঘটনা জানাজানি হতেই যান নিয়ন্ত্রণে পুলিশি গাফিলতির অভিযোগে ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সকাল থেকে সাতঘণ্টা ধরে অবরোধের জেরে রাজ্য সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দুপুর একটায় পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। চাঁচলের এসডিপিও অভিষেক মজুমদার বলেন, ‘‘পিকআপ ভ্যানের চালকের খোঁজে তল্লাশি চলছে। চালক মদ্যপ ছিলেন বলে মনে হচ্ছে।’’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটিহার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি এক আত্মীয়কে দেখতে গিয়েছিলেন লতাশি গ্রামের একই পরিবারের ওই আটজন। রাতে হাটেবাজারে এক্সপ্রেসে ভালুকা রোড স্টেশনে নামার পর হেঁটে দেড় কিলোমিটার দূরে বাড়িতে ফিরছিলেন তাঁরা। ওই সময় উল্টোদিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে তাদের পিষে দেয়। দুর্ঘটনার পরেই গাড়ি ফেলে চালক ও খালাসি পালিয়ে যায়। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা সাহানারা বিবি (২৬) ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকিদের উদ্ধার করে স্থানীয় মশালদহ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
আহতদের মধ্যে সায়েমা বিবি ও তাঁর চার বছরের শিশুসন্তান সাউদ আলির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের কলকাতায় স্থানান্তরিত করানো হয়েছে। হাত-পা ভেঙে গুরুতর জখম হয়েছেন মৃতার স্বামী আমজাদ আলি, ননদ সায়েমা বিবি, নাজেরা খাতুন, শিউলি খাতুন ও সেরিনা খাতুন নামে তিন বালিকা।
ঘটনার জেরে এ দিন সকাল থেকে রোড ডিভাইডার-সহ ক্ষতিপূরণের দাবিতে বালাপাথারে রাজ্য সড়ক অবরোধ শুরু করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। স্থানীয় দৌলতপুর পঞ্চায়েতের সিপিএম সদস্য সুজাল আলি বলেন, ‘‘আমজাদ পেশায় দিনমজুর। তাই ক্ষতিপূরণের সঙ্গে যান নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বাসিন্দারা অবরোধ করেন।’’