আলিপুরদুয়ার জেলা ঘোষনার একবছর পরেও হাল ফেরেনি প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের। বুধবার রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে দ্রুত প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের আলিপুরদুয়ারের দফতরের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও কর্মী নিয়োগের বিষয় আলোচনা করেন আলিপুরদুয়ারের প্রথামিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান। দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলাপরিষের অফিসের পেছনে গ্যারেজের উপরে তিনটি ছোট ছোট ঘর বরাদ্দ হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দফতরের জন্য। গতবছর সেপটেম্বর মাসে সমীর নার্জিনারি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পরে একটি ঘরে চেয়ার টেবিল পেতে অফিস শুরু করলেও বাকি দুটি ঘরে এখনও রয়ে গিয়েছে চালকদের বিশ্রামের খাট। কার্যত একটি ঘরেই চলছে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অফিসে। বরাদ্দ হয়নি কর্মীও। তিনজন প্রাথমিক শিক্ষককে ডেপুটেশনে অফিসে এনে কোনমত চলছে অফিসের কাজ।
ঘটনার কথা স্বীকার করে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান সমীর নার্জিনারি বলেন, “জেলা পরিষদের আফিসের পেছনে গ্যারেজের উপর আমাদের জন্য অফিস বরাদ্দ হয়েছে। অফিসের জন্য কমপক্ষে ১০-১২টি ঘরের প্রয়োজন। বুধবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিষয় গুলি জানিয়েছি। অফিস চালানোর জন্য একটি ভাড়া বাড়ির কথা শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছি। সঙ্গে প্রয়োজনীয় কর্মী দ্রুত নিয়োগ করার বিষয় জানিয়েছি। তিনি বিষয় গুলি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।”
গত বছর ২৫ জুন মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ার মহকুমাকে পৃথক জেলা ঘোষণা করেন। প্রায় এক বছর পরেও প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দফতর নিয়ে রাজ্য সরকারের কোন উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সদস্য সন্দীপ পাল জানান, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান থাকলেও সমস্ত কাজ জলপাইগুড়ি থেকেই হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দফতরে এখনও কোন পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি।
আলিপুরদুয়ার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের জন্য আলাদা করে নেই কোন ফাইনান্স অফিসার। পর্যাপ্ত কর্মী নেই। আগে নানা কাজে শিক্ষকদের ছুটতে হত জলপাইগুড়ি। এখন সেই জায়গায় আলিপুরদুয়ারে পরিকাঠামো না গড়ে ওঠায় প্রায় জলপাইগুড়ি ও কলকাতায় ছুটতে হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা সংদের চেয়ারম্যানকে। দফতর সূত্রে জানাগিয়েছে, আলিপুরদুয়ারের প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অফিসের জন্য ৫টি কম্পিউটার একটি জেরক্স মেশিন বরাদ্দ হলেও ঘরের অভাবে তা আনা যাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি কৌশিক সরকার বলেন, “আলিপুরদুয়ারে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের জন্য নতুন ডিআই অনুমোদন হয়েছে। শীঘ্র কাজে যোগ দেবেন। তবে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে পরিকাঠমোর কিছু অভাব রয়েছে। চেয়ারম্যানকে উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে।