×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১১ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

দূরত্ব বিধি শিকেয় তুলে একুশে পালন 

নিজস্ব সংবাদদাতা
শিলিগুড়ি ২২ জুলাই ২০২০ ০৭:১১
মঙ্গলবার দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে গৌতম দেব। নিজস্ব চিত্র

মঙ্গলবার দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে গৌতম দেব। নিজস্ব চিত্র

বলা হয়েছিল, ভার্চুয়াল জনসভা। বাড়িতে বসেই তা দেখা যাবে। শুধু পতাকা উত্তোলনের জন্য সামাজিক দূরত্ব মেনে যেটুকু জমায়েত করার দল করবে। কিন্তু একুশে জুলাই উদ্যাপন শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিভঙ্গের অনুষ্ঠানে পরিণত হল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাদের সামনেই কোথাও মাস্ক থুতনিতে রেখে কাছাকাছি বসেছেন অনেকে। কোথাওবা ছোট ঘরে ঠাসাঠাসি। যদিও তৃণমূল উত্তরবঙ্গ কোর কমিটির চেয়ারম্যান গৌতম দেবের দাবি, স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘিত হয়নি।

দার্জিলিং জেলা ও সংলগ্ন জলপাইগুড়ির কিছুটা অংশে বুথে বুথে পালিত হয় একুশে জুলাই। দলের মৃত সদস্যদের শ্রদ্ধা জানানো ও পতাকা তোলা হয়।

দার্জিলিং জেলার বেশ কিছু জায়গায় জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হয়। শহর ও গ্রামের আনাচে-কানাচে ছিল

Advertisement

মাইকও। এ দিন দলের জেলা কার্যালয়ে পতাকা তোলেন গৌতম দেব। ছিলেন জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত না হলেও শিলিগুড়ি কলেজের সামনে ছাত্র সংগঠনের অনুষ্ঠানে একজন মাস্ক ছাড়াই মন্ত্রীর কাছে দাঁড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ। দাদাভাই মাঠে মহিলা তৃণমূলের বৃক্ষরোপণে অংশ নেন মন্ত্রী। সেখানেও সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘিত হয় বলেও অভিযোগ।

মন্ত্রীর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের ফুলবাড়ি-২ নম্বর পঞ্চায়েতের কানকাটা মোড়ের কার্যালয়ে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোয় প্রচুর নেতা-কর্মী আসেন। কয়েক জনকে মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে বসে গল্প করতে দেখা গিয়েছে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ঘরের ভিতরে অনেকে ভিড় করেন। যারা বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ছিল না বলে অভিযোগ।

গৌতম দেব বলেন, ‘‘কে মাস্ক পরেনি, আমার তো চোখে পড়েনি। কানকাটা মোড়ের অনুষ্ঠান ঘরের ভিতর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হয়েছে।’’

বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তথা উত্তরবঙ্গের নেতা রথীন বসু বলেন, ‘‘যত কড়াকড়ি আমাদের ক্ষেত্রেই। শাসকদলের নেতারা কোনও নিয়ম মানেন না।’’ বিজেপির দাবি, কয়েক দিন আগে তৃণমূলের দুই নেতার জন্য অনেকে করোনা আক্রান্ত হন। অনুষ্ঠানগুলির কয়েকটিতে পুলিশ থাকলেও তারা কেন কিছু বলেনি, এই নিয়ে কথা বলতে চাননি পুলিশ কর্তারা।

মাইক বাজানো নিয়েও ছিল অভিযোগ। বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমি মাত্র কয়েকদিন হল হাসপাতাল ছাড়া পেয়েছি। এর মধ্যে সকাল থেকে মাইক বাজছে। এ সব কি শোভনীয়?’’

দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, ‘‘অশোকবাবুর অসুবিধার কথা জেনেই সেখান থেকে মাইক সরিয়ে নেওয়া হয়।’’

Advertisement