Advertisement
E-Paper

বাগান বন্ধ, তবে পুজো বন্ধ করেননি শ্রমিকরা

কচিকাঁচাদের মুখে হাসি ফোটাতে হতাশা উপেক্ষা করে বন্ধ মধু চা বাগানে পুজোর আয়োজনে মাতলেন শ্রমিকরা। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি বোনাসের দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করায় বাগান ছেড়ে চলে যায় মালিক পক্ষ।

নারায়ণ দে

শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:০২
মধু চা বাগানের পুজো মণ্ডপ।

মধু চা বাগানের পুজো মণ্ডপ।

কচিকাঁচাদের মুখে হাসি ফোটাতে হতাশা উপেক্ষা করে বন্ধ মধু চা বাগানে পুজোর আয়োজনে মাতলেন শ্রমিকরা।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি বোনাসের দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করায় বাগান ছেড়ে চলে যায় মালিক পক্ষ। তারপর এক বছর ধরে বন্ধ মধু চাবাগান খোলার জন্য শ্রম দফতর ১০টি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকলেও সেই বৈঠকে উপস্থিত হয়নি মালিক পক্ষ। তাই খোলেনি বাগানও। তাই অনটন আর দারিদ্র এখন নিত্যসঙ্গী শ্রমিকদের। তবুও বাতাসে আগমনীর সুর শোনা যেতেই নড়েচড়ে বসেছেন বাগান শ্রমিকরা। নিজেরাই কমিটি তৈরি করে পুজো প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। তবে সেই পুজোতে আগের মত জৌলুস যে থাকবে না তাও স্বীকার করে নিয়েছেন বাগানের বাসিন্দারা ।

১৯২৯ সালে ইংরেজ আমলে মধু চাবাগান চালু হলেও প্রথম থেকেই মালিকানা ছিল বাঙালিদের হাতে। চাবাগান শুরুর কয়েক বছর পর থেকেই সেখানে শুরু হয় দুর্গা পুজো। বাগানের ফ্যাক্টরির পাশেই রয়েছে স্থায়ী দুর্গা মণ্ডপও। গত বছর দুর্গা পুজোর দিন কয়েক আগে বাগান বন্ধ হলেও পুজো বন্ধ হতে দেননি শ্রমিকরা।

মধু চাবাগানের বাগানবাবু তথা পুজো কমিটির সভাপতি স্বপন মজুমদার জানান, বাগান চালু থাকা অবস্থায় দুর্গা পুজোর অধিকাংশ খরচ দিত বাগান কর্তৃপক্ষ। বাকি টাকা শ্রমিক ও কর্মচারীরা চাঁদা তুলে জোগাড় করত। এবছরও পুজো হবে চাবাগানে। তবে গত বছরের বাজেট এবারে বাড়ানো হয়নি। আনুমানিক ৫২ হাজার টাকার মধ্যে বাজেট রাখা হয়েছে। স্বপন বাবু বলেন, “গতবছর পুজোর ঠিক আগে চাবাগান বন্ধ হওয়াতে দুর্গা পুজো চাঁদা তুলে করা হলেও আমরা টাকার অভাবে কালী পুজো করতে পারিনি। তাই এবছর ঠিক করা হয়েছে কমিটির ১০০ জন সদস্য আড়াইশো টাকা করে চাঁদা দেবে। সেখান থেকে ৬-৭ হাজার টাকা আলাদা রাখা হবে কালী পুজোর জন্য। বাগানের ৯৫৮ জন শ্রমিক ১০ টাকা ২০ টাকা ৫০ টাকা যে যা পারবে চাঁদা দেবে। তবে আমরা সবার কাছে ৫০ টাকা করে চাঁদা চাইব। টাকার অভাব থাকায় হয়ত এবছর দুর্গা পুজোর অষ্টমীতে খিচুরি না হতে পারে।”

বাগানের মুন্সী লাইনের বাসিন্দা রেনুকা ধানওয়ার ও রীনা টোপ্পরা জানান, বাগানে দুর্গা পুজো না হলে ছোট ছোট বাচ্চাদের খারাপ লাগবে, পুজোর সময় ঢাকের শব্দ শোনা না গেলে বাগানের বিষন্নতা যেন আরও বেড়ে যাবে। তাই শ্রমিকরা ১০ টাকা ২০ টাকা যে যা পারবে চাঁদা দিয়ে পুজো হবে। বাগানের আর এক বাসিন্দা ফুলমনি ওরাঁও বলেন, “আমরা চাইছি বাগানটা খুলুক। সরকার থেকে মাসে ২ টাকা কেজি দরে ১২ কেজি করে চাল দিচ্ছে। তবে পেটের তাগিদে অনেকেই বাইরে দিন মজুরি করছে। ”

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বাবলু মজুমদার বলেন, “বন্ধ মধু চাবাগানে শ্রমিকরা নিজেরাই পুজোর ব্যবস্থা করছে। আমরা চেষ্টা করব দুর্গা পুজোতে যদি কোনও সাহায্য করা যায়।” পিটিডব্লিউর নেতা নির্মল লোহার বলেন, “ বন্ধ চাবাগানে শ্রমিকরা কষ্ট করে পুজোর আয়োজন করছে। নতুন মালিক বাগানের দায়িত্ব নিলে সেই খুশি আরোও বেড়ে যাবে।”

narayan dey madhu tea garden tea labour tea labour durgapuja madhu tea garden durgapuja
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy