ডিমের দাম বাড়ায় ৭ জুলাই থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম দেওয়া বন্ধ রাখার দাবিতে গণস্বাক্ষর করা স্মারকলিপি দিল অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সহায়িকারা। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালিয়াগঞ্জ শহরের বয়রা কালীবাড়ি সংলগ্ন শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিকের দফতরের স্মারকলিপি দেন তাঁরা। গর্ভবতী থেকে প্রসূতি মা ও শিশুদের পুষ্টির অভাব দূর করতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও ডিম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সহায়িকাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা কল্যাণ সমিতির ব্লক সভানেত্রী সুমিতা সাহা দাস বলেন, “বিগত দুই মাস ধরে আমরা প্রাপ্য ভাতা পাইনি। আমাদের ভাতার টাকা দিয়ে কেন্দ্রের মা ও শিশুদের ডিম ও সবজি খাওয়াতে হয়। আমরা ডিমের জন্য পাই সাড়ে ছয় টাকা, অথচ বর্তমানে ডিমের বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে আট টাকা। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের টাকা দিয়ে কেন্দ্রে আর ডিম খাওয়াতে পাড়ছি না আমরা। সেই কারণেই ৭ জুলাই থেকে কেন্দ্রে ডিম দেওয়া বন্ধ রাখার দাবিতে এ দিন শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিকের হাতে গণস্বাক্ষর সম্মলিত স্মারকলিপি জমা দিলাম।’’ যত দিন পর্যন্ত ডিম বাবদ টাকা না বাড়বে, তত দিন কেন্দ্রে ডিম দেওয়া বন্ধ রাখা হবে বলে জানান তিনি।
তাঁর দাবি, ‘‘আমরা সামান্য ৯ হাজার টাকা ভাতা পাই। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালাব নাকি কেন্দ্রে ডিম, আনাজ কেনার ব্যবস্থা করব? দু’মাস থেকে ভাতার টাকা বন্ধ রয়েছে। ধার করে অনেকে ডিম, আনাজ কিনছেন। দোকানদারেরা ধারে কোনও জিনিস দিতে চাইছেন না। কেন্দ্রে খাওয়ানোর পর সরকার আমাদের টাকা দেয়। অথচ গ্রামের লোক তা বুঝতে চাইছেন না।’’
কালিয়াগঞ্জ ব্লক শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিক মৃন্ময় দাস বলেন, “দাবিপত্র ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছ থেকে আসা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)