দু’বছর আগে দাড়িভিট কাণ্ডে তাপস বর্মণ, রাজেশ সরকারের মৃত্যুকে সামনে রেখে আন্দোলন সংগঠিত করেছিল বিজেপি। লোকসভা ভোটের হিসেব বলছে, সেই আন্দোলনে লাভ হয়েছিল গেরুয়া শিবিরের। ঠিক সে ভাবেই শিলিগুড়িতে উলেন রায়ের মৃত্যুকে সামনে রেখে আন্দোলনে নামতে চাইছে তারা। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দুটোই একই রকমের ঘটনা। তাঁদের অভিযোগ, উভয় ক্ষেত্রে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। তার পর ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। দলের দাবি, উলেন এলাকার মন্ডল কমিটির পদে ছিলেন। দাড়িভিটের মতো এ ক্ষেত্রেও দেহ ফের ময়নাতদন্ত করা, ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করা হয়েছে। এলাকায় উলেনের মূর্তি বসানোর ভাবনাচিন্তাও চলছে বিজেপিতে। পালন করা হবে শহিদ দিবসও। ঘটনা নিয়ে টানা আন্দোলনে নামার কথা জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপির আন্দোলন ভোটে মুখে শাসক শিবির কিছুটা চাপে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। তবে এদিন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘‘ঘটনার পর এখন বিষয়টি একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ময়নাতদন্ত হচ্ছে। সে সব আগে মিটুক। তার পরে আমরাও মানুষের কাছে যাব। যে ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা নিয়ে মানুষকে বলব।’’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনার পর বিজেপি হাতে ‘অস্ত্র’ পেয়ে গেল আন্দোলনের। উলেনের বাড়ি গজলডোবা এলাকায়। ওই এলাকায় বিজেপি ইতিমধ্যেই সংগঠন মজবুত করেছে বলে দাবি। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও দাড়িভিটে দুই তরুণের মৃত্যু এবং শিলিগুড়িতে উলেন রায়ের মৃত্যু দুটো একই রকম ঘটনা। মন্ত্রীরা যেখানে ময়দানে সেখানে সিআইডি কী তদন্ত করবে? তাই আমরা সিবিআই তদন্ত চেয়েছি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা দাড়িভিটে মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়ের দাবিতে লড়েছি। এ ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হবে না।’’
২০১৮ সালে ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মতানৈক্যের জেরে ছাত্রদের আন্দোলন ধুন্ধুমার চেহারা নেয় উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিট হাইস্কুলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই তরুণের মৃত্যু হয়। তা নিয়ে রাজ্য জুড়েই হইচই পড়ে। মৃতেরা তাদের লোক বলে দাবি করে এর পর তা নিয়ে আন্দোলনে নামে বিজেপি। এমনকি, জেলায় লোকসভা ভোটের প্রচারও বিজেপি শুরু করে দাড়িভিট থেকেই।
উলেন যে এলাকার বাসিন্দা, সেটি রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। উত্তরকন্যা অভিযানের সময় এই ঘটনাকে সামনে রেখে শুধু রাজগঞ্জে নয়, শিলিগুড়িতেও নিজেদের জমি শক্ত করতে সক্রিয় বিজেপি। দলের একটি সূত্রেই জানানো হয়েছে, এ দিন তারই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বন্ধ ডাকা হয়। বিজেপির অন্যতম রাজ্য সম্পাদক রথীন বসু বলেন, ‘‘উলেন রায় শহিদের মর্যাদা পাবেন।’’