Advertisement
E-Paper

এআই ঠিক করছে কলকাতা-শিলিগুড়ি বাসের ভাড়া! ছুটি পেলে পাহাড়ে যেতে ঘাম ছুটছে পর্যটকদের

বাসের এই ভাড়া কারা নির্ধারণ করে, তার কোন হদিস নেই। কোন সংগঠন নেপথ্যে? এই বর্ধিত ভাড়া কেন? তার জবাব নেই বাসমালিকদের কাছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩৫

— প্রতীকী চিত্র।

সপ্তাহান্তের ছুটি একটু দীর্ঘ হলেই ঘুরে আসতে ইচ্ছা করে পাহাড় বা জঙ্গলে! কিন্তু সেই ইচ্ছায় এখন বাদ সাধছে বাসের ভাড়া।

জানুয়ারি মাসের সরস্বতী পুজোর দিন অর্থাৎ ২৩ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত টানা ছুটি। সেই ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বহু মানুষ পাড়ি দিতে চাইছেন উত্তরবঙ্গে৷ পাহাড়, জঙ্গলের হোটেলগুলিতে আর একটাও ঘর খালি পড়ে নেই। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এআই মুহূর্তের ব্যবধানে বাড়িয়ে তুলছে বাসের ভাড়া। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে কলকাতার বাস ভাড়া গিয়ে ঠেকেছে তিন থেকে চার হাজার টাকায়। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা পাঁচ হাজারে গিয়ে ঠেকছে। তবে বাসের এই ভাড়া কারা নির্ধারণ করে, তার কোন হদিস নেই। কোন সংগঠন নেপথ্যে? এই বর্ধিত ভাড়া কেন? তার জবাব নেই বাস মালিকদের কাছে।

কলকাতা-শিলিগুড়ি পথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়াচ্ছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। তার পরেও টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের। আঙুল উঠছে দালালচক্রের দিকে। যাঁরা অনেক দিন আগে পরিকল্পনা করে টিকিট কেটে রেখেছেন, তাদের বিষয়টা আলাদা৷ যাঁদের কর্মসূত্রে বা পড়াশোনার সূত্রে নিয়মিত কলকাতা এবং শিলিগুড়ির মধ্যে যাতায়াতের প্রয়োজন হয়, তাঁদের বাসের উপরই নির্ভর করতে হয়। এই পথে বাসের পরিষেবাও আগের থেকে উন্নত। কাজেই চাহিদা তুঙ্গে। আর সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাসের সংখ্যাও বাড়ছে লাফিয়ে৷ কিন্তু সেই বেসরকারি বাসের নেই কোন নির্ধারিত ভাড়া। বর্ষশেষে, সপ্তাহান্তে, টানা ছুটি হলেই এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যায় বেসরকারি বাসের ভাড়া।

একটি অ্যাপ মারফত প্রায় সমস্ত বাসের টিকিট কাটা হয়। এ ছাড়া কাউন্টার থেকে টিকিট কিনতে হয়। তাই টিকিট কাটার ক্ষেত্রে পর্যটকেরা অ্যাপের উপরই বেশি নির্ভর করছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাসের মালিকেরা জানেনই না, তাদের বাসের ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ওই অ্যাপটি এআই দ্বারা পরিচালিত এবং এই ভাড়াও নির্ধারণ করে এআই। বাস মালিকদের একাংশের অভিযোগ, মালিকপক্ষকে কোনও কিছু না জানিয়েই এই অ্যাপ ভাড়া বাড়িয়ে তুলছে।

এ নিয়ে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট স্যানাল বলেন, ‘‘যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ভাড়া তৈরি করা হোক। সাধারণ মানুষ এটা নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। সাধারণ মানুষের কোনও ভাবেই যেন মনে না হয়, তাঁরা প্রতারিত হচ্ছেন৷ যা নিয়ে সাংগঠনিক ভাবে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংগঠনের সাথে মৌখিক ভাবে আলোচনা হয়েছে৷ লিখিত ভাবে সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ ভাড়া বেঁধে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’’

অন্য দিকে, পরিবার নিয়ে দার্জিলিংয়ে বেড়াতে এসে মৌমিতা কর্মকার বলেন, ‘‘প্রায় প্রতিটি টিকিটের মূল্য তিন হাজার টাকার কাছাকাছি। এটা খুব বেশি।’’ পর্যটক নীলেশ্বর বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অভিযোগ জানানোর কোনও জায়গা নেই। এই বেসরকারি বাস পরিষেবায় সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy