Advertisement
E-Paper

কুকুরের আতঙ্ক শহরে

সন্ধের পরেই পথ কুকুরের দাপটে আতঙ্কিত শহরবাসী। কখনও তারস্বরে ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে আসছে, কখনও বা পথ কুকুরের দল কামড়েও দিচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। কুকুর দৌরাত্ম্যে নাকাল সব বয়সের বাসিন্দারাই।

স্বর্ণার্ক ঘোষ

শেষ আপডেট: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:০১

সন্ধের পরেই পথ কুকুরের দাপটে আতঙ্কিত শহরবাসী। কখনও তারস্বরে ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে আসছে, কখনও বা পথ কুকুরের দল কামড়েও দিচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। কুকুর দৌরাত্ম্যে নাকাল সব বয়সের বাসিন্দারাই।

শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিউটাউন-মোহন্তপাড়া এলাকায় পথ কুকুরের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে বলে বাসিন্দাদের দাবি। সারমেয়রা কখনও দল বেঁধে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে, কোথাও আবার রাস্তা জুড়ে শুয়ে রয়েছে। পাশ দিয়ে বাইক নিয়ে গেলেই, গা ঝাড়া দিয়ে উঠে তাড়া করছে। লাফিয়ে বাইক আরোহীকে কামড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি। এলাকার বাসিন্দা সনৎ রায় বললেন, ‘‘ব্যবসার জন্য আমাকে একটু রাতেই ফিরতে হয়। এখন তো রাতে বাড়ি ফেরাই সমস্যা। প্রতি রাতেই কুকুরের তাড়া খেতে হয়। ভাগিস্য এখনও কামড় খাইনি।’’ কলেজ পড়ুয়া শৌনক রায় বলেন, ‘‘প্রায় রাতেই টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার সময় কুকুরের এড়িয়ে চলা রোজকার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রথ কুকুর অপসারণে প্রশাসনের কোনো ভূমিকাই চোখে পড়ে না।’’

শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ড় ১৩ নম্বর ওয়ার্ড় এবং পান্ডাপাড়া ও কংগ্রেস পাড়াতেও কুকুর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নতুন পাড়া এলাকার পেশায় শিক্ষিকা এক মাহিলার কথায়, ‘‘এলাকায় কুকুরের তাণ্ডবে মাঝে মাঝে খুবই সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়, কুকুরের কামড়ও খেতে হয়েছে।’’ আদরপাড়ার একাংশ বাসিন্দার আবার কুকুরের চিৎকারে রাতের ঘুমের দফারফা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সন্ধ্যের পর থেকেই গলির রাস্তায় কুকুরের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বেশ কিছু পাগল কুকুরও এলাকায় ঘোরাফেরা করে বলে দাবি। বাসিন্দাদের ক্ষোভ, প্রশাসনের ততরফে কুকুরের নির্বীজকরণে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কুকুরের কামড় খেয়ে ইঞ্জেকশন নিতে হয় এলাকার বাসিন্দা এক চিকিৎসকে। তাঁর কথায়, ‘‘বাড়ির সামনে সবে গাড়ি থেকে নেমেছি। হঠাৎই একটা কুকুর কোথা থেকে তেড়ে এসে কামড়ে দিল। কুকুরটা বোধ হয় পাগল ছিল।’’ স্টেশন রোড, দু’নম্বর ঘুমটি, শান্তিপাড়া এবং মাসকলাইবাড়ি এলাকাতেও দিন দিন কুকুরের উপদ্রব বাড়ছে বলে অভিযোগ।

পথ কুকুরদের নির্বীজকরণ না হওয়াতেই ক্রমাগত বংশবৃদ্ধি হয়ে চলেছে বলে বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ। জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসুর কথায়, ‘‘পথ কুকুরদের ধরে শহরের বাইরে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংস্থার আপত্তি রয়েছে। প্রাণী নিষ্ঠুরতা আইনও রয়েছে। দেখা যাক প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব।’’

বাসিন্দাদের দাবি পথ কুকুরদের নিয়ে সর্বত্র সমস্যা নেই। তবে কিছু পাগল কুকুর বা রোগে ভুগতে থাকা কুকুরগুলির কামড়ানোর প্রবণতা বেশি। একটি সংগঠনের সদস্য মনতোষ রায়ের কথায়, ‘‘কুকুরদের কেন শহর থেকে বাইরে ছেড়ে দেওয়া হবে। পশুপ্রাণীদের ওপর কোনও নিষ্ঠুরতা করা চলবে না বলে দেশে আইন রয়েছে। পুরসভা প্রশাসনের উচিত অসুস্থ পথ কুকুরদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy