Advertisement
E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_04-05-26

উদ্ধার হল মাস্ক, গেল স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে

পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হচ্ছে, দুই দফতরের মধ্যে এর থেকে ভাল সমন্বয়ের উদাহরণ আর কিছু হতে পারে না।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২০ ০৮:৫৬
ফাইল চিত্র

ফাইল চিত্র

১৮ টাকা দামের মাস্ক বিক্রি করা হচ্ছিল ৬০ টাকায়। ২০ টাকা দামেরটা বিক্রি করা হচ্ছিল ৮০ টাকায়। খোঁজ পেয়ে শিলিগুড়ি পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা হানা দেয় মহানন্দা সেতুর কাছে মহাত্মা গাঁধী মোড় লাগোয়া একটি মাস্কের দোকানে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় কয়েক হাজার মজুত মাস্ক। সেগুলি স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হচ্ছে, দুই দফতরের মধ্যে এর থেকে ভাল সমন্বয়ের উদাহরণ আর কিছু হতে পারে না। এর থেকেই স্পষ্ট, সহযোগিতা করে চলছে দু’পক্ষই। তবে রবিবার জনতা কার্ফু পালনের কথা ঘোষণা হওয়ার পর থেকে যে কেনাকাটার হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে, তা কী ভাবে সামলানো হবে, সেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। সূত্রের খবর, দোকানে দোকানে চাল, ডাল থেকে দুধের প্যাকেট, আলু, পেঁয়াজ মজুত করার হিড়িক চলছে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে কালোবাজারির সম্ভাবনা। এখনও শহরে জিনিসপত্র দাম সেভাবে না বাড়লেও সুযোগ বুঝে একাংশ অসাধু ব্যবসায়ী জিনিসপত্রের দাম বেশি নেওয়া শুরু করেছেন বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের একাংশে অভিযোগ, আতঙ্ক দূর করতে প্রশাসনের মাইকিং বা প্রচারের এখনও অভাব রয়েছে।

শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ির গেটবাজারে চালের কালো বাজারির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে শিলিগুড়ি কমিশনারেটের এনজেপি থানার পুলিশ। ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি গত কয়েকদিনে প্রচুর পরিমাণে চাল মজুত করে বেশি দাম নিচ্ছেন। পুলিশ খবর পেয়েই বাজারে পৌঁছায়। পরে দোকানের জিনিসপত্রের স্টক মেলানো ছাড়াও তদন্ত করা হয়। তবে কালোবাজারির অভিযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে ছাড়া হয়।

শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক সুমন্ত সহায় ইতিমধ্যে কয়েকটি বাজারে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। জেলাশাসক দীপাপ প্রিয়া পি বলেন, ‘‘মালপত্র গুদামে মজুত করে কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি বাজারে পুলিশকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।’’

বৃহস্পতিবার থেকে শহরে বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে টানা কার্ফু, ব্ল্যাক আউট বা দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা শুরু করেছে। কাউকে কাউকে ২-৩ বস্তা করে চাল, ১০-১৫ কেজি করে আলু-পেঁয়াজ মজুত করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে কালোবাজারির অভিযোগও আসতে শুরু করেছে। শিলিগুড়ি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সচিব গৌরীশঙ্কর গোয়েল বলেন, ‘‘কালোবাজারি হলে জানান। পুলিশ-প্রশাসন আইন মেনে ব্যবস্থা নেবে।’’

বর্ধমান রোডের বাসিন্দা উত্তম দাস এ দিন বলছিলেন, ‘‘সবাই বলছে চাল, ডালের দাম বাড়বে। জিনিস মিলবে না। তাই দু’বস্তা চাল কিনে নিলাম।’’ এই ভাবে দেশবন্ধুপাড়ার সঞ্জীবন ভৌমিক দু’মাসের রেশন তুললেন, হাকিমপাড়ার হরিপদ সাহা আলু, পেঁয়াজ কিনলেন পাইকার থেকে। তিনি বললেন, ‘‘বাংলাদেশের যুদ্ধের সময় মনে পড়ছে। চাল, ডাল আর আলু, পেঁয়াজ মজুত করেছি।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy