রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক চিকিৎসক, নার্স ও হিসাবরক্ষকের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। রবিবার এ কথা দাবি করেছেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ দিলীপ পাল। ওই তিন জন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের করোনা পজিটিভ এক চিকিৎসকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এ দিকে, রায়গঞ্জে ওই তিনজনের সংস্পর্শে আসা রায়গঞ্জ থানার এক সাব ইনস্পেক্টর ও চারজন সিভিক ভলান্টিয়ারের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি। এ দিকে, করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর গুজবকে কেন্দ্র করে হোম কোয়রান্টিনে থাকা ওই চার সিভিক ভলান্টিয়ারের মধ্যে একজনের বাড়ির সামনে বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। এ দিন রায়গঞ্জের ভাঙারোডে ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। অন্য দিকে, রায়গঞ্জ মেডিক্যালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের এক টেকনিশিয়ানকে শনিবার রাতে কোয়রান্টিনে পাঠান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অধ্যক্ষ দিলীপের কথায়, “হাসপাতালের ওই চিকিৎসক, নার্স ও হিসাবরক্ষকের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে, পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের রিপোর্ট এখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে আসেনি। সিসিইউ-এর এক টেকনিশিয়ান শনিবার কলকাতা থেকে ছোটগাড়িতে চেপে হাসপাতালে আসেন। ওই রাতেই তাঁকে হাসপাতালের কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাঁর লালারস সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য মালদহ মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।”
রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার সুমিত কুমারের বক্তব্য, “করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর গুজবকে কেন্দ্র করে এ দিন বাসিন্দাদের একাংশ ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়ির সামনে জড়ো হন। পুলিশ তাঁদের সচেতন করেছে।”
সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে একটি বিশেষ বাসে রায়গঞ্জ ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের বেশ কিছু চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনিক কর্মী কলকাতা থেকে ওই দুই মেডিক্যাল কলেজে আসেন। ওই বাসে রায়গঞ্জ মেডিক্যালের ওই চিকিৎসক, নার্স ও হিসাবরক্ষক ছিলেন। বাসে থাকা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের এক চিকিৎসকের শুক্রবার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এর পরেই তাঁর সংস্পর্শে আসা রায়গঞ্জ মেডিক্যালের তিনজনের লালারসের নমুনা পাঠানো হয়। তাঁদের রায়গঞ্জের বোগ্রামে সরকারি কোয়রান্টিনে পাঠানো হয়। একই দিনে তাঁদের সংস্পর্শে আসেন রায়গঞ্জ থানার সাব-ইনস্পেক্টর ও চার সিভিক।