Advertisement
E-Paper

চার জন করোনা পজ়িটিভ

আচমকা বদলে গেল পুরো ছবিটা!

পার্থ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২০ ০৭:০৩
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আচমকা বদলে গেল পুরো ছবিটা! আলিপুরদুয়ারের বারবিশার কোয়রান্টিনে থাকা চার জনের শরীরে ধরা পড়ল করোনা সংক্রমণ। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের লালারসের রিপোর্টে সংক্রমণ ধরা পরে। দু-জনের বাড়ি আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকে। বাকি দু-জনের কোচবিহারের জোড়াইয়ে। চার জনকে শিলিগুড়ির করোনা হাসপাতালে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।
টানা লকডাউনের ক্লান্তির মধ্যেও মনের একটা স্বস্তি ছিল জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে। কারণ, রাজ্য জুড়ে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর একের পর এক জেলা থেকে খারাপ খবর মিললেও আলিপুরদুয়ারে কোনও সংক্রমণ ধরা পড়েনি কারও। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতের এই একটা খবরেই চিন্তার ভাঁজ পড়ল জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই অবস্থায় গ্রিন জোন থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী এমনিতেই অরেঞ্জ জোনে চলে যাওয়ার কথা। এখন প্রশ্ন, এর ফলে আজ, শুক্রবার থেকে কি আর গ্রিন জোনের ছাড়ের সুবিধা পাবে এই জেলা? যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কর্তাদের কেউ কিছু বলতে চাননি। এক স্বাস্থ্য কর্তা বলেন, “জ়োন যারা ভাগ করেন, তাঁরা এটা ঠিক করবেন। আমাদের এখন লক্ষ্য জেলায় যাতে আর করোনা না ছড়ায় সেটা নিশ্চিত করা।”
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমারগ্রামের তিনজন ও কোচবিহারের জোড়াইয়ের দু-জন চিকিত্সার জন্য দিল্লির এমসে গিয়েছিলেন। এই পাঁচজনের মধ্যে একজন কিডনির রোগীও রয়েছেন। লকডাউনের জেরে ট্রেন বা যান চলাচল বন্ধ থাকায় পাঁচজন মিলে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে দিল্লি থেকে রওনা হন। কিন্তু গোপন সূত্রে সেই খবর পৌঁছে যায় পুলিশের কাছে। গত সোমবার বারবিশায় তাঁদের ধরে ফেলে পুলিশ। ওইদিনই তাঁদের সেখানকার একটি কোয়রান্টিন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তাঁদের লালারসের নমুনা বুধবার পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আলিপুরদুয়ারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পূরণ শর্মা জানিয়েছেন, পাঁচজনের মধ্যে চারজনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাদিয়ান বলেন, ‘‘পুরো তথ্য এখনও আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি বিশদে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’’
সূত্রের খবর, বারবিশায় কোয়রান্টিনে থাকা একসঙ্গে চারজনের শরীরে সংক্রমণ মেলার পর জেলার স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে হইচই শুরু হয়ে যায়। রিপোর্ট নেগেটিভ আসা কিডনির রোগীকে তড়িঘড়ি তপসিখাতার করোনার সারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আক্রান্ত চারজনকে রাতেই শিলিগুড়ির করোনা হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, কোয়রান্টিনে থাকা বাকিদের খুব বেশি সংস্পর্শে ছিলেন না এই চারজন। তবু এই তিনদিনে যাঁদের সংস্পর্শে তাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। টানা একমাস লকডাউন অবস্থায় বন্দিজীবন কাটানোর পর আগামী সোমবার থেকে কিছুটা ছাড়ের আশা করেছিলেন জেলার বাসিন্দারা। কিন্তু তার মধ্যেই এই খবরে দুশ্চিন্তা বাড়ল।

coronavirus lockdown
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy