সাত সকালে পাড়ার স্টেশনারি দোকান ফাঁকা থাকবে বলে পাইরুটি আনতে গিয়েছিলেন বাবুপাড়ার সুবিমল রায়। গিয়ে দেখেন সামজিক দূরত্ব বজায় রেখেই দোকানের সামনে চলছে জোর আলোচনা। সকালের সংবাদপত্রও এসে গিয়েছে। আলোচনা হচ্ছে- কোন জোনে থাকছে শহর শিলিগুড়ি! লকডাইনে কি আর ছাড় মিলবে! শিলিগুড়ি অরেঞ্জ জোন থেকে গ্রিন হবে নাকি রেড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শহরে ঘুরছে কেন্দ্রীয় দল।- সোশাল মিডিয়া থেকে ফোন বা স্টেশনারি বা আনাজের দোকানের লাইনেও- শিলিগুড়িতে চলছে এসব আলোচনা। সুবিমলবাবু বলেন, ‘‘নতুন মাসেও ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হবে মনে হচ্ছে।’’
মাটিগাড়ার হাট ব্যবসায়ী নিত্যানন্দ বর্মন। রোজই প্রায় এক পরিচিতকে টেলিফোন করে জানতে চাইছেন, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। শিলিগুড়ির রং কি সবুজ হবে। আবার কলেজ পড়ুয়া তমালিকা সেন। হোয়াটসঅ্যাপ কল, চ্যাট, ভিডিও কল ছাড়াও পড়াশুনো করে আর সময় কাটছে না তমালিকার। তাঁর কথায়, ‘‘নতুন করে কি শিলিগুড়ি বিপদসঙ্কুল হয়ে পড়েছে, তা বুঝতে পারছি না। কেন্দ্রীয় দল এই জেলাতেই আসায় চিন্তা বেডছে। কবে যে মুক্তি পাব।’’
সুবিমলবাবু হোক বা তমালিকা, সকলের একটাই বক্তব্য, অধিকাংশ মানুষ লকডাউন মানছেন। সামজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহার করছেন। কিন্তু একদল লোক তা করছেন না। তাতে রোজ বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা। ওই একদল মানুষের জন্য বাকিরা কেন ভুক্তিভোগী হবেন। এখনও কিছু মানুষ শোধরাচ্ছেন না।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বেলা অবধি বৃষ্টি ভেজা ছিল শহর শিলিগুড়ি। কিন্তু তার মধ্যেও সুযোগ পেলে সরকারি নিয়ম ভেঙে ঘুরে বেড়িয়েছেন একদল। তাই বর্ষাতি পড়ে ছাতা মাথায় দিয়েই পুলিশ অফিসারেরা শুরু করেন লকডাউনের ধরপাকড়। পুলিশ সূত্রের খবর, এদিন সন্ধ্যা অবধি শহরে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩০ জনকে। রাতের দিকে সংখ্যাটা কিছুটা বেড়েছে। আর স্কুটি, গাড়ি মিলিয়ে আটক করা হয়েছে ২২টি। শহরের বাসিন্দাদের একাংশ জানাচ্ছেন, অকারণে বাইরে বার হওয়াটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বস্তি, কলোনিতে এর প্রবণতা বেশি। পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।
কমিশনারেটের অফিসারেরা জানাচ্ছেন, একমুঠো ধনেপাতা, হাতে একটা এচোড় বা খইনিকেনার জন্য লোকে বার হচ্ছে। আবার অমুক এলাকার চেহারা কেমন দেখে আসি বলেও স্কুটি নিয়ে লোককে ধরা হয়েছে। তেমনিই, দোকানের এক পাল্লা খুলে ব্যবসা করের চেষ্টাও লোকজন করে যাচ্ছেন। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্ব বলেছেন, ‘‘বাসিন্দারা সচেতন না হলে আমাদের কড়া হতেই হবে।’’