মালদহের নারায়ণপুর বাইপাস সংলগ্ন ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস’ (সারি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮ জন। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ জন শনিবার ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের লালারসের নমুনা নেওয়া হয়েছে। এ দিন সকালে আরও তিন জনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে জেলার ১৭৪ জনের লালারস পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু সকলেরই রিপোর্ট নেগেটিভ। জেলায় এখনও পর্যন্ত ১১৭৬ জনের লালারস পরীক্ষা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দু’জন।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভূষণ চক্রবর্তী বলেন, "সারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৫ জনের লালারসের নমুনা মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকি তিন জনেরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।’’
এ দিকে, মালদহ জেলাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রক 'রেড জোন' ঘোষণা করায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। তার জেরে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা, এমনকি ইংরেজবাজার শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তায়, গলিতে বহিরাগতদের আটকাতে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্য দিকে, দু’দিন পরে স্বস্তি ফিরল ডালখোলায়। আলিপুরদুয়ারে দিনকয়েক আগে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েচিল। ওই রোগীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন ডালখোলা থানার ১২ জন পুলিশকর্মী।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে কোয়রান্টিনে থাকা চার জনের শরীরে করোনার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তাঁরা দিল্লি থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে ফেরেন। ২৭ এপ্রিল ডালখোলার বিহার সীমানায় একটি ‘নাকা চেকিং’ পয়েন্টে থাকা পুলিশকর্মীরা ওই অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি কাগজপত্র খুঁটিয়ে দেখেন। বৃহস্পতিবার ওই চার জনের ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট পাওয়ার পরে ওই পুলিশকর্মীদের গোয়ালপোখরের পাঞ্জিপাড়ায় সরকারি কোয়রান্টিনে শিবিরে পাঠানো হয়। এক জন পুলিশ অফিসারকে হোম কোয়রাণ্টিনে রাখা হয়। শুক্রবার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ওই ১২ জন পুলিশকর্মীর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, ‘‘জেলায় এখনও কোনও পজিটিভ রোগীর সন্ধান মেলেনি। ওই পুলিশকর্মীদের রিপোর্ট নেগেটিভ। এতে স্বস্তি ফিরলে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন বহু লোকের লালারস পরীক্ষা করা হচ্ছে। আতঙ্কের কিছু নেই।’’
ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার সচিন মাক্কর বলেন, ‘‘উদ্বেগে ছিলাম। রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় স্বস্তি ফিরেছে। তবে সকলকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, রাতেই ওই পুলিশ কর্মীদের কাজে ফেরানো হয়।