Advertisement
E-Paper

৪০০ কিমি হেঁটে ঘরে পৌঁছতে ভরসা গুগল

খালি পেটেই দুর্গাপুর থেকে হেঁটে ডালখোলায় ফিরছেন আট যুবক। চারশো কিলোমিটার পথ পেরোতে তাঁদের ভরসা ‘গুগল ম্যাপ’।

অভিজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২০ ০৬:০২
উদ্বেগ: বর্ধমান থেকে ডালখোলা হেঁটে বাড়ি যাওয়ার পথে মালদহের বাইপাসে রাস্তার ধারে বিশ্রামে আট যুবক। নিজস্ব চিত্র

উদ্বেগ: বর্ধমান থেকে ডালখোলা হেঁটে বাড়ি যাওয়ার পথে মালদহের বাইপাসে রাস্তার ধারে বিশ্রামে আট যুবক। নিজস্ব চিত্র


খালি পেটেই দুর্গাপুর থেকে হেঁটে ডালখোলায় ফিরছেন আট যুবক। চারশো কিলোমিটার পথ পেরোতে তাঁদের ভরসা ‘গুগল ম্যাপ’।
বৃহস্পতিবার ওই আট শ্রমিককে জল, বিস্কুট খাওয়ায় পুলিশ। তা খেয়ে ফের গন্তব্যে রওনা দেন নুর আলম, সোয়েব আখতার, আফসার শেখরা। তাঁরা জানান, সকলের বাড়ি ডালখোলার মানসচৌপথিতে। দুর্গাপুরে সাবান, শ্যাম্পু তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। দুর্গাপুরেই ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
লকডাউন শুরু হতেই বদলে যায় তাঁদের রোজনামচা। হারান কাজ। ভাড়াবাড়িতে অর্ধাহারে কাটছিল দিন। ফুরিয়ে যায় টাকা। অভিযোগ, বাড়ি ভাড়া দিতে না পাড়ায় কেটে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। বাড়ির মালিক ঘর ছাড়তে বলেন।
ওই কারখানার শ্রমিকদের অনেকেই পুরনো সাইকেল কিনে বাড়ি রওনা দিয়েছেন। কিন্তু হাজার দেড়েক টাকা দিয়ে সাইকেল কিনতে পারেননি আফসাররা। রবিবার ব্যাগ নিয়ে হেঁটেই বেরিয়ে পড়েন আট সহকর্মী। কোন পথে গেলে সুবিধা হবে, তা জানতে দেখেন গুগল ম্যাপ। তাঁরা জানান, এত পথ হাঁটতে কখনও কখনও যন্ত্রণায় ভারী হয়েছে পা। তবুও দমেননি।
তাঁদের কথায়, ‘‘রাস্তাই এখন যেন আমাদের ঘরবাড়ি। স্নান নেই, খাবার নেই। রাতদিন একনাগাড়ে হেঁটে চলেছি।’’ নুর ইসলাম বলেন, “পকেটে টাকা নেই যে কিছু কিনে খাব। পথে পুলিশ জল, বিস্কুট খাইয়েছে।”
এমন ভাবে কেন বাড়ি ফেরা?
তাঁর কথায়, ‘‘অর্ধাহারে দিন কাটছিল। বাড়ি ফিরলে কমপক্ষে পরিবারের সঙ্গে আলু-ভাত খেয়ে তো থাকতে পারব।”

coronavirus lockdown
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy