করোনা সংক্রমণ নিয়ে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবায় খামতি নিয়ে অভিযোগ শুরু থেকেই উঠছে। বিশেষ করে কোমর্বিডিটির রোগীদের সঠিক চিকিৎসা কোভিড হাসপাতালগুলিতে মিলছে না বলে এখনও অভিযোগ রয়েছে। তার উপর নার্সিংহোমগুলি থেকে রোগীকে ফেরানো হচ্ছে বলেও কিছু ক্ষেত্রে নালিশ উঠেছে। নানা নার্সিংহোম ঘুরে জায়গা না পেয়ে পরে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি। তার জেরে শিলিগুড়িতে করোনার সংক্রমণ নিয়ে মৃত্যুর হারও বেড়েছে, বলছে চিকিৎসকদের একাংশ। চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে এ ধরনের খামতি না থাকে, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দিলেন স্বাস্থ্যকর্তারা। তা ছাড়া করোনার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে ধরে নিয়ে জেলাগুলি কতটা প্রস্তুত, তাও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার উত্তরকন্যায় রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য, ন্যাশনাল হেল্থ মিশনের রাজ্যের মিশন ডিরেক্টর সৌমিত্র মোহন দার্জিলিং জেলা প্রশাসন এবং জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে করেন। সেখানেই তাঁরা জানিয়ে দেন, রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন খামতি না থাকে। মিশন ডিরেক্টর বলেন, ‘‘যাঁরা কোভিড হাসপাতালে যাচ্ছেন বা নানা ধরনের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছেন, তাঁদের পরিষেবার ক্ষেত্রে যেন ফাঁক না থাকে।’’
নার্সিংহোম থেকে রোগী ফেরানো, মুমূর্ষু রোগীকে রেফার করা নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, ‘‘অভিযোগ ঠিক-ই। আমরা এ বিষয়ে নার্সিংহোমগুলিকে সচেতন করে দিচ্ছি, প্রতিটি নার্সিংহোমকে বারবার নির্দেশিকা পাঠাচ্ছি যে, কোনও রোগীকে ফেরানো যাবে না। দ্বিতীয়ত, রোগী স্থিতিশীল না হলে রেফার করা যাবে না।’’ তিনি জানান, কলকাতার আশেপাশে দেখা গিয়েছে, বেশ কিছু রোগীকে দেরিতে রেফার করার জন্য রোগী মারা গিয়েছে। পরে কোভিড হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসার সুযোগ মেলেনি। এটা সব জায়গায় ঘটছে।
নার্সিংহোমগুলির মাত্রাতিরিক্ত খরচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বাসিন্দাদের বলব সরকারি হাসপাতালে প্রচুর জায়গা রয়েছে। চিকিৎসাও ভাল। বেসরকারি হাসপাতালে গেলে সেখানকার খরচ জেনে যাবেন। তাই বলে এটাও সমর্থন যোগ্য নয় যে, নার্সিংহোমগুলি এত বেশি টাকা নেবে।’’ মানুষকেই তার প্রতিরোধ করতে হবে, জানান তিনি।
কোমর্বিডিটির রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে সুপার স্পেশ্যালিটি চিকিৎসকদের যে টিম তৈরি করা হয়, তারা ঠিক মতো রোগীদের দেখতে যান না বলে অভিযোগ। স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, ‘‘সব জেনে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এই জন্যই পর্যবেক্ষণ, নজরদারি করা হয়।’’