Advertisement
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Housewife

গৃহবধূ ও তাঁর মেয়েকে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে

মহিলার বাপেরবাড়ির লোকের অভিযোগ, তাঁদের মেয়ে ও নাতনির উপর অত্যাচার চালাতেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।

নিখোঁজ মহিলার মা আজকেরা বিবি। নিজস্ব চিত্র।

নিখোঁজ মহিলার মা আজকেরা বিবি। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা
কালিয়াচক শেষ আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ০০:০৪
Share: Save:

এক গৃহবধূ ও তাঁর মেয়েকে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচক থানার জালুয়াবাথাল এলাকায়।

মহিলার বাপেরবাড়ির লোকের অভিযোগ, তাঁদের মেয়ে ও নাতনির উপর অত্যাচার চালাতেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। এই ঘটনায় শ্বশুরবাড়ির চার জনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে মহিলার পরিবার। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মালদার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। যদিও কালিয়াচক থানার একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন ওই গৃহবধূর পরিবার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দশ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন গৃহবধূ তানজুরা বিবি এবং তাঁর একমাত্র কন্যা সন্তান আসিফা খাতুন। তানজুরার বাপের বাড়ি ইংরেজবাজার থানার মহদিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খিরকি এলাকায়। সাত বছর আগে তানজুরার সঙ্গে বিয়ে হয় কালিয়াচক থানার জালুয়াবাথাল এলাকার বাসিন্দা আসিফ শেখের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তানজুরার উপর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা অত্যাচার চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। এর পর গত ৬ মার্চ তানজুরা এবং তাঁর মেয়ে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। এ ব্যাপারে ৮ মার্চ কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তানজুরার মা আজকেরা বিবি।

বুধবার মালদা আদালতের এক আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মালদার পুলিশ সুপারের কাছে মেয়ে ও নাতনিকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে লিখিত নালিশ জানিয়েছেন আজকেরা বিবি। তিনি বলেন, “বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই জামাই-সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা মেয়ের উপর অত্যাচার চালাচ্ছিলেন। মাঝখানে মেয়ে এবং নাতনিকে আমরা বাড়ি নিয়ে চলে এসেছিলাম। এর পর গত ৬ মার্চ মেয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে যায়। আর তার পরেই জানতে পারি শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। পরে কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কোনও সহযোগিতা করছে না।

আজকেরা বিবির আরও দাবি, একমাস আগে একটি অচেনা নম্বর থেকে তানজুরা ফোন করে বলেছিল সে খুব বিপদে আছে। এর পরে ফোন কেটে যায় । পরে সেই নম্বরটি দিয়ে পুনরায় পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়। তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে ওই ফোন নম্বরটি উত্তরপ্রদেশের কোনও এক এলাকার। তিনি বলেন, “তাই আমাদের সন্দেহ মেয়ে ও নাতনিকে পাচারকারীদের হাতে বিক্রি করে দিয়েছে জামাই-সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা।”

নিখোঁজ গৃহবধূর পরিবারের আইনজীবী মৃত্যুঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তানজুরা বিবির স্বামী আসিফ শেখ, দেওর করিম শেখ , নজরুল শেখ এবং ননদ মিনারা বিবির বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে‌। পাশাপাশি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নিখোঁজ মহিলার মা।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE