গত কয়েক দিন ধরেই উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় বৃষ্টি চলছে। তবে এই বৃষ্টি আরও কয়েক দিন জারি থাকবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই পরিস্থিতিতে দার্জিলিঙের সান্দাকফুতে ধরা পড়ল আবহাওয়ার অন্য ছবি। সেখানে প্রবল তুষারপাত হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ছয় ইঞ্চি পুরু বরফে ঢাকা পড়েছে রাস্তাঘাট। বৃষ্টি এবং তুষারপাত— আবহাওয়ার দুই ছবি ধরা পড়ল উত্তরবঙ্গে। শীতের মরসুম পেরিয়ে এ বার গরমের মরসুম পড়তে চলেছে। কিন্তু মার্চের শেষের দিকে সান্দাকফুতে এমন তুষারপাত আবহাওয়ার খামখেয়ালি চরিত্র বলেই মনে করছেন আবহবিদেরা।
সমতলে গরমের মরসুম শুরু হতেই পর্যটকেরা ভিড় জমাতে শুরু করেন দার্জিলিং-সহ সিকিমে। কিন্তু পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে গোটা রাজ্যে আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও শিলাবৃষ্টি, ঝড় হচ্ছে। ২৮ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টি চলবে। তার সঙ্গে পাহাড়ের উঁচু এলাকায় চলবে তুষারপাত। প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক দিন ধরেই হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাত হচ্ছে। শুক্রবার রাতে তাপমাত্রা আরও নেমে যায়। ফলে ওই দিন রাত থেকেই ভারী তুষারপাত শুরু হয়েছে। দার্জিলিং প্রশাসন সূত্রে খবর , তুষারপাতের জেরে প্রায় ছয় ইঞ্চি পুরু বরফ জমেছে সান্দাকফু জুড়ে। তুষারপাতের জেরে শতাধিক পর্যটক আটকে রয়েছে সান্দাকফু-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়।
এ বিষয়ে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্ন্যাল বলেন, ‘‘সঠিক সংখ্যাটা না পাওয়া গেলেও এখনও পর্যন্ত প্রায় শতাধিক পর্যটক সান্দাকফুতে আটকে রয়েছেন। ন্যাশনাল পার্ক হওয়ার কারণে প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে অন্য উপায়ে যতটা পরিমাণ বরফ সরানো যায় সেই কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই জিটিএ থেকে কাজে নামানো হয়েছে কর্মীদের। সুরক্ষিত ভাবে পর্যটকদের যাতে নীচে নামিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টাই চালানো হচ্ছে।’’
অন্য দিকে, উত্তর এবং পূর্ব সিকিমেও তুষারপাত চলছে। লাচেন থেকে থাঙ্গু এবং থাঙ্গু থেকে গুরুদোংমার যাওয়ার রাস্তা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ইউমথাং থেকে জ়িরো পয়েন্টের রাস্তাও তুষারপাতের কারণে অচল হয়ে পড়েছে। চুংথাং থেকে লাচুং এবং মঙ্গন যাওয়ার একাধিক রাস্তা খোলা রয়েছে, যদিও হালকা যানবাহন ছাড়া বড় গাড়ি চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সিকিম আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর ডক্টর গোপীনাথ রাহা বলেন, ‘‘উঁচু পার্বত্য এলাকাগুলিতে তুষারপাত জারি থাকবে। সান্দাকফু-সহ সিকিমে তুষারপাত চলবে। বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় ও সমতলে সমানতালে বৃষ্টি হবে। রবিবার থেকে পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক হবে।’’
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৮ মার্চ পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে ২৪ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা। তার পর আকাশ পরিষ্কার হবে। ২৪ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের চার জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় ২৪ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।