Advertisement
E-Paper

TMC: এক কর্মসূচি, ‘আলাদা’ রবি-পার্থ

বিধানসভা ভোটের অনেক আগে থেকেই কোচবিহারে রবীন্দ্রনাথ ও পার্থপ্রতিমের অনুগামীদের ‘বিরোধ’ চলছিল।

নমিতেশ ঘোষ

শেষ আপডেট: ০৫ অগস্ট ২০২১ ০৬:০৩
খাদ্য আন্দোলনে নিহতদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে কোচবিহারে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

খাদ্য আন্দোলনে নিহতদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে কোচবিহারে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। নিজস্ব চিত্র।

খাদ্য আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েও তৃণমূলের ‘দ্বন্দ্ব’ প্রকাশ্যে কোচবিহারে। আলাদা আলাদা ভাবে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও পার্থপ্রতিম রায় ওই কর্মসূচি পালন করলেন। রবীন্দ্রনাথ তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি। পার্থ তৃণমূলের কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সভাপতি। আবার যুব তৃণমূলের অভিজিৎ দে ভৌমিক সাগরদিঘি পাড়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অবশ্য কেউই বিরোধের কথা স্বীকার করতে চাননি।

রবীন্দ্রনাথ বলেন, “শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানে সবাই হাজির হয়েছিলেন। বিরোধের কিছু নেই।” পার্থপ্রতিম বলেন, “প্রত্যেক বছর ওই কর্মসূচি হয়। এ বারও হয়েছে। আমি দু’টি অনুষ্ঠানে ছিলাম। আরেকটি হয়েছি বলে শুনেছি।” একসময়ের তৃণমূল নেতা তথা বর্তমানে বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী সোশ্যলা মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সালের ৪ অগস্ট ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে যুব কংগ্রেসের ডাকে আন্দোলন হয়েছিল কোচবিহারে। সাগরদিঘি পাড়ে একটি মিছিল লক্ষ্য করে গুলি চালায় পুলিশ। সেই সময় রবীন চন্দ্র, বিমান দাস ও হায়দর আলি নিহত হন। কয়েক জন জখমও হয়েছিলেন। ওই ঘটনা নিয়ে সেই সময় উত্তাল হয়েছিল রাজ্য। ওই কর্মীদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রত্যেক বছর একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়। এ বারও সেই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য আন্দোলনে নিহতদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে কোচবিহারে পার্থপ্রতিম রায়।

খাদ্য আন্দোলনে নিহতদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে কোচবিহারে পার্থপ্রতিম রায়। নিজস্ব চিত্র।

অভিযোগ, তাতেই রাজ্যের শাসকদলের বিরোধ সামনে এসেছে। বিধানসভা ভোটের অনেক আগে থেকেই কোচবিহারে রবীন্দ্রনাথ ও পার্থপ্রতিমের অনুগামীদের ‘বিরোধ’ চলছিল। খাদ্য আন্দোলন নিয়েও দু’জনকে আলাদা কর্মসূচি নিতে দেখা গিয়েছে। কোচবিহারে তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিসের সামনে মঞ্চ বেঁধে অনুষ্ঠান করেন রবীন্দ্রনাথ। সেখানে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা পার্টির চেয়ারম্যান বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ, বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়া, অভিজিৎ দে ভৌমিক হাজির ছিলেন। আবার সাগরদিঘি পাড়ে অভিজিতের অনুষ্ঠানেও রবীন্দ্রনাথ-বিনয়কৃষ্ণ যোগ দেন। তাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার পরে সাগরদিঘি পাড়ে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান পার্থপ্রতিম।

চকচকায় রবীন চন্দের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। সেই কর্মসূচিতে সবাইকে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন পার্থপ্রতিম। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ে পার্থপ্রতিম এবং তৃণমূল নেতা গিরিন্দ্রনাথ রায় হাজির ছিলেন। তাঁরা ওই অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পরে ওই বাড়িতে যান রবীন্দ্রনাথ ও বিনয়কৃষ্ণ। মিহির একসময় কংগ্রেস নেতা ছিলেন, পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। প্রতি বছর তিনি সাগরদিঘি পাড়ে শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে হাজির থাকতেন। একাধিক বার ওই বাড়িতেও গিয়েছিলেন। এ বার তিনি বিজেপি বিধায়ক। ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “প্রতিবাদ আন্দোলন আজও জারি রয়েছে।” তবে এ দিন দুপুরের পরে খাদ্য আন্দোলনে নিহত রবীন চন্দ্র ও বিমান দাসের বাড়িতে যান মিহির।

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy